গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আশায় ঘাটে স্ত্রীর আকুতি

​চাঁদপুর (ডিজিটাল) প্রতিনিধি: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাটে মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া রবিন মিয়ার (৩০) সন্ধান মেলেনি ঘটনার দুই দিন পার হলেও। স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আশায় এখনো নদীর পাড়ে ভিজে চোখে অপেক্ষা করছেন তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার ও একমাত্র সাড়ে চার বছরের কন্যাসন্তান আয়ান।

​গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী ‘মুকবিল-২’ লঞ্চটি ষাটনল লঞ্চঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল। রবিন লঞ্চ থেকে নামার পর নিজের ব্যাগ ভেতরে ভুলে যাওয়ার কথা মনে করে পুনরায় ওঠেন। পরবর্তীতে লঞ্চ থেকে নামার সময় হঠাৎ লঞ্চটি পেছনের দিকে চালিয়ে দেওয়া হলে তাড়াহুড়ো করে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় অসাবধানতাবশত পা পিছিয়ে মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন রবিন।

​ঘটনার পরপরই দ্রুত লঞ্চটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মোহনপুর নৌ-পুলিশ লঞ্চটি আটক করে। এ সময় লঞ্চের মাস্টার মনির হোসেন (৫০) ও গ্রিজার মো. সুমন মিয়াকে (২৭) আটক করা হয়।

​খবর পেয়ে বেলতলী ও মোহনপুর নৌ-পুলিশ, মতলব উত্তর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল যৌথভাবে মেঘনা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নদীতে ভাসমান অবস্থায় রবিনের ব্যাগ উদ্ধার করা হয় এবং ব্যাগের মোবাইল সিমকার্ডের সূত্র ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ।

​এ ঘটনায় নিখোঁজ রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের জন্য এজাহার দিয়েছেন। বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক পিপিএম জানান, এজাহার পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া শনিবারও নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

​পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী নাসরিন আক্তার আহাজারি করে বলেন, আমার মাইয়্যা আয়ান কে দেখবে? কেউ কি সাথে সাথে উঠাইতে পারলেন না? স্বামী জীবিত অবস্থায় ফিরে আসার আকুতি নিয়ে এখনো ষাটনল ঘাটের পাড়ে প্রহর গুনছেন তিনি।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের উদ্ধার কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button