চিকিৎসার অভাবে থমকে আছে হিয়ার শৈশব, সহযোগিতার আকুতি পরিবারের

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: শৈশব মানেই দুরন্ত ছুটে চলা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা আর স্কুলের বেঞ্চে বসে নতুন কিছু শেখার আনন্দ। কিন্তু সেই শৈশবই যেন হঠাৎ থেমে গেছে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হিয়া মনির। সহপাঠীদের হাতে যখন বই-খাতা, তখন হিয়ার ছোট্ট হাত-পা কাঁপছে অসুস্থতার ভারে। ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছে শিশুটি। চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে থমকে আছে তার চিকিৎসা।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিয়া মনি। দুই বছর ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছে সে। জ্বর ও বমিসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে মেয়েকে সুস্থ করতে দীর্ঘদিন ধরে এক চিকিৎসকের কাছ থেকে আরেক চিকিৎসকের কাছে ছুটেছেন বাবা হরি মহন্ত। প্রায় ছয় মাস আগে হিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুরের একজন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়। পরে নিউরো বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ভর্তি করা হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, হিয়ার মাথায় টিউমার হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু মেয়েকে সুস্থ করে তোলার ইচ্ছা থাকলেও চিকিৎসার ব্যয় বহনের সামর্থ্য নেই পরিবারের।
হিয়ার বাবা হরি মহন্ত সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পাশের সরকারি জায়গায় পলিথিন দিয়ে ছোট একটি চালা তুলে চায়ের দোকান চালান। দোকানে কয়েকটি কেটলি, কাপ-গ্লাস ও বেঞ্চ। সঙ্গে সামান্য বিস্কুট ও কেক বিক্রি করেন। দিন শেষে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই চলে পাঁচ সদস্যের সংসার। মেয়ের দীর্ঘ চিকিৎসায় সেই সামান্য সঞ্চয়ও শেষ হয়ে গেছে।
পরিবারের থাকার ঘরটির অবস্থাও জরাজীর্ণ। কয়েক শতক জায়গার মধ্যে টিনশেডের ভাঙাচোরা একটি ঘরেই তাদের বসবাস। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ে, আর রোদ উঠলে ভাঙা টিনের ফাঁক দিয়ে দেখা যায় আকাশ। বাড়িতে যাতায়াতের পথও তেমন ভালো নয়। এর মধ্যেই একমাত্র সন্তান হিয়ার গুরুতর অসুস্থতা পরিবারটির জীবনে নেমে এনেছে আরও বড় অনিশ্চয়তা।
হিয়ার মা বিউটি রানী বলেন, মেয়েকে সুস্থ করে আবার স্কুলে পাঠাতে চান তারা। কিন্তু চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে না পারায় অসহায় হয়ে পড়েছেন। মেয়ের কষ্ট চোখের সামনে দেখেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে না পারার কষ্টই এখন তাদের সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা।
প্রতিবেশীরা জানান, হিয়ার চিকিৎসার জন্য নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তারা বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করেছেন। তবে রংপুরের পর ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার যে ব্যয়, তা বহন করা দরিদ্র পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি সমাজসেবা অধিদপ্তরের যে অনুদান দেওয়া হয়, সঠিক কাগজপত্র থাকলে সেখান থেকেও তিনি এককালীন আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার আশ্বাস দেন তিনি।’
পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, হিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ও হৃদয়বান মানুষরা এগিয়ে আসবেন। সম্মিলিত সহযোগিতায় হয়তো আবারও বই-খাতা হাতে স্কুলের পথে ফিরতে পারবে ছোট্ট হিয়া।



