যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে পুনরায় চালু সিরিয়ার ঐতিহাসিক উমাইয়া মসজিদ

অনুষ্ঠানে আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল-গারিব বলেন, উমাইয়া শাসনামল থেকেই এই মসজিদ আলেপ্পোর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পর ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি আবারও শহরবাসীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সংগ্রামের ইতিহাসেরও সাক্ষী। স্থানীয় মানুষ ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে কাজ করেছেন এবং পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তুলেছেন।
গভর্নর জানান, সংস্কারকাজে মসজিদটির ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মসজিদে আবারও আজানের ধ্বনি ফিরে আসার পথ তৈরি হয়েছে।
সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ওসামা আল-রিফাই বলেন, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণে আলেপ্পো মুসলিমদের কাছে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। সংস্কারের পর উমাইয়া মসজিদ তার আগের জৌলুস ফিরে পেয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ও জ্ঞানচর্চায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সিরিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আবু আল-খায়ের শুকরি আলেপ্পোর উমাইয়া মসজিদকে দামেস্কের উমাইয়া মসজিদের সমতুল্য বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে জ্ঞানচর্চা ও সংগ্রামের ঐতিহ্য বহন করে আসছে।
তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো পুনর্নির্মাণই যথেষ্ট নয়, মানুষের উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষের হাত ধরেই সভ্যতা, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে। সিরিয়ার জনগণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, আলেপ্পোর মুফতি ইব্রাহিম শাশো মসজিদটি পুনরায় চালু হওয়াকে ঐতিহাসিক স্থাপনাটিতে নতুন প্রাণ ফিরে পাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মসজিদটির টিকে থাকা ও ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস তুলে ধরবে।
আলেপ্পোর উমাইয়া মসজিদ শহরটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় জীবন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে আসছে।
যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সংস্কার ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে মসজিদটি আবার চালু হওয়ায় আলেপ্পোর ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে এর ঐতিহাসিক ভূমিকা পুনরুজ্জীবিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শহরটির ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় এটি নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।



