সিলেটে মোটরসাইকেল থামিয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতাকে হত্যা

বাংলা টিভি ডেস্ক: সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় বদরুল আলম (৩২) নামে ছাত্রদলের এক সাবেক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা সাদেক মিয়া (২৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর রুস্তমপুর ইউনিয়নের গুরাগ্রামে সোনা মিয়ার বাড়ির সামনের কাঁচা রাস্তায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত বদরুল আলম রুস্তমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ইউনিয়নের হাদারপার গ্রামের মৃত মাওলানা তজম্মুল আলীর ছেলে। আহত সাদেক মিয়া একই এলাকার লামা হাদারপার (ভৈরবী বস্তি) গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোরে ফজরের নামাজের সময় সাদেক মিয়ার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা সোনা মিয়া ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে তিনি কয়েকজনকে ধারালো ছুরি দিয়ে বদরুলের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালাতে দেখেন। হামলাকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি বলে জানান।
পরে সোনা মিয়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তাদের ফোনে না পেয়ে তিনি বদরুলের স্বজনদের খবর দেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই আখলাকুল আম্বিয়া জানান, ভোর পৌনে ৫টার দিকে বদরুলের সঙ্গে থাকা সাদেক আহমদ তার ছোট ভাই মাহবুবকে ফোন করে বাঁচানোর আকুতি জানান। এরপর থেকে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তিনি অভিযোগ করেন, মনরতল বাজার থেকে ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে স্থানীয় গুরাগ্রামের সাহিন, তুহিন ও মামুনসহ কয়েকজন বদরুলের ওপর হামলা চালান। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় বদরুল ও সাদেকের ব্যবহৃত একটি টিভিএস মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়ল জানান, ভোর পৌনে ৫টার দিকে বদরুল ও সাদেকের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে বদরুলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। গুরুতর আহত সাদেক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, প্রত্যক্ষদর্শীরা কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এতে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



