ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট দরকার: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনার জবাবে দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি নিয়ে সমঝোতার সমালোচনা করেছিলেন জেলেনস্কি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।
সম্প্রতি রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে সমঝোতার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। জেলেনস্কির আশঙ্কা, এই চুক্তির ফলে রাশিয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করবে, যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ব্যয় করা হতে পারে। তিনি চুক্তিটিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য ‘উপহার’ বলেও অভিহিত করেন।
শনিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জেলেনস্কির সমালোচনা করে বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার অনুমতি দিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে সমস্যা তৈরি করছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, এসব হামলা বন্ধ করা উচিত জেলেনস্কির।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইউক্রেনের এমন একজন নতুন নেতা প্রয়োজন, যিনি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন। তাঁর দাবি, জেলেনস্কি চাইলে অনেক আগেই বিভিন্ন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি।
রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত
শুক্রবার ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত রাখার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন সরবরাহের কথা রয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প আরও জানান, পরবর্তী ধাপে অতিরিক্ত ১০ লাখ টন এবং পরে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হতে পারে। শেষ পর্যায়ের সরবরাহ রাশিয়ার শোধনাগারগুলোর সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেলেনস্কি মনে করেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়া যুদ্ধ পরিচালনার জন্য নতুন অর্থ পাবে এবং সামরিক সরঞ্জাম কেনার সুযোগ বাড়বে। ইউক্রেনের শহরগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখতেও মস্কো এই অর্থ ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া শহরে প্রাণঘাতী হামলার পর জেলেনস্কি এসব মন্তব্য করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও সমালোচনা
যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার ডিজেল সমঝোতার সমালোচনা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। তাঁর মতে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে দেশটির যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে।
কালাস বলেন, রাশিয়ার ওপর চাপ কমানোর উপযুক্ত সময় এটি নয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সেই চাপ কমাবে না। তিনি আরও জানান, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের জবাবে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কাজ করছেন।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও জেলেনস্কির মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। আলোচনায় ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। দুই নেতা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও একমত হন বলে জানানো হয়েছে।
জ্বালানির দাম কমাতে ট্রাম্পের উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছেছে। আগের মাসে এই দাম ছিল ৫ দশমিক ৯৪ ডলার এবং গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩ দশমিক ৬৮ ডলার। বাড়তি জ্বালানি ব্যয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচেও প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশটিতে সামরিক আইন কার্যকর থাকায় নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ইউক্রেনে নতুন নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ভোটারদের জেলেনস্কিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সুযোগ থাকা উচিত।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘অসাধারণ ও ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, ইউক্রেনের এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা প্রকৃত অর্থে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দেবে।



