রাত পোহালেই বিয়ে, তার আগেই চলে গেলেন সৌমিক

গাইবান্ধা প্রতিনিধি (ডিজিটাল): বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদ, আজ ছিল বিয়ে। নতুন জীবনের স্বপ্নে বিভোর দুই পরিবার। কনের বাড়িতে বর বরণের প্রস্তুতি, আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে প্রবেশপথের গেট। বরের বাড়িতেও বিয়ের আয়োজন ঘিরে সাজ সাজ রব। আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হওয়ার কথা ছিল চারপাশ। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিলো গভীর বিষাদে। বিয়ের আগের সন্ধ্যায় খবর এলো আর নেই বর আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক (২১)।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সৌমিকের মৃত্যুর খবর পৌঁছায় কনের বাড়িতে। মুহূর্তেই থেমে যায় বিয়ের সব আয়োজন। যে বাড়িতে পরদিন নতুন জামাইকে বরণ করার কথা, সেখানে নেমে আসে শোকের ছায়া।
একই চিত্র গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়ায় সৌমিকদের বাড়িতেও। বিয়ের আনন্দে সজ্জিত বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় জমে, তবে আনন্দের বদলে সবার চোখে তখন অশ্রু আর মুখে শোকের ছাপ।
আরিফ শাহরিয়ার সৌমিকের বয়স ২১ বছর। তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে উত্তীর্ণ হন।
সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা জানান, এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন সৌমিক। গত চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতাল এলাকার বেসরকারি মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়।
শারমিনের অভিযোগ, সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বেলা ১টার দিকে চিকিৎসক মনির হোসেন মুরাদ ব্যবস্থাপত্র দেন। ওষুধ নিয়ে স্বজনরা সৌমিককে বাড়িতে নিয়ে যান।
পরে বিকেলে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারমিনের অভিযোগ, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা রিকশায় বসে ছিলেন সৌমিক। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সৌমিকের মৃত্যুতে দুই পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। আনন্দের মুহূর্ত বিষাদে রূপ নেওয়ার এই ঘটনা নাড়া দিয়েছে স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনদেরও।



