বাংলাদেশ

ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন ভারতের বন্ধুত্বের পরীক্ষা: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বাংলা টিভি ডেস্ক: পদ্মা নদীতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পরিচয় দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেছেন, শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের কমপক্ষে ৩০ হাজার কিউসেকের বেশি পানি পাওয়া প্রয়োজন। অথচ কোনো কোনো মাসে পদ্মায় পানির প্রবাহ ৫ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার কুঠিপাড়া এলাকায় পদ্মা নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১২ ডিসেম্বর ভারতের সঙ্গে ফারাক্কা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। চুক্তিটি নবায়নের লক্ষ্যে ১২ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে কাজ করছে বাংলাদেশ। তবে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় দুই দেশের কারিগরি দলের সদস্যরা অবস্থান করছেন। তাঁরা প্রতিদিন নদীর পানিপ্রবাহ পরিমাপ করছেন। ভারত অতীতের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব দেখাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে প্রস্তুতি

ফারাক্কা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের প্রস্তুতি সম্পর্কে ফরহাদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নদী ও পানি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত জুনে কলকাতায় একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল তিতুমীরের নেতৃত্বে আরেকটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ভারতের নতুন হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এসব বৈঠকে ভবিষ্যতের ফারাক্কা চুক্তিতে পানির প্রবাহের নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের হাইকমিশনার এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন এবং বাংলাদেশের বার্তা নিয়ে দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করছেন। তিনি বাংলাদেশে ফিরে এলে আলোচনার অগ্রগতি জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

পানির প্রবাহ নিয়ে প্রত্যাশা

পদ্মার পানিবণ্টন নিয়ে অতীতে ভারতের বিভিন্ন পদক্ষেপ বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত এবার বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব নিয়ে চুক্তি নবায়ন করবে এবং পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিচয় দেবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন, রাজশাহীর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল হোসেন, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান এবং গোদাগাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর নওহাটা সেতুসংলগ্ন এলাকায় বারনই নদী পরিদর্শন করেন। পরে নগরীর শ্রীরামপুর টি-গ্রোয়েন পরিদর্শন শেষে কেন্দ্রীয় উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে গাছের চারা রোপণ করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button