গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

ইতালির নামে লিবিয়া নিয়ে নির্যাতন: গ্রেপ্তার ১

মাদারীপুর প্রতিনিধি: ইতালিতে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মাদারীপুরের হাসান বেপারীকে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন ও কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর মানবপাচার মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. ইমরান খানকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের পটিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ইমরান খান চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছনহরা চাটরা গ্রামের মৃত বাচা মিয়ার ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রধান অভিযুক্ত ইমরান খান ও তার সহযোগীরা ভিকটিম হাসান বেপারীসহ কয়েকজনকে বৈধ স্পন্সর ভিসায় ইতালি পাঠানোর লোভ দেখায়। এ সুবাদে গত বছরের ১৫ অক্টোবর আসামিরা এজাহারকারীর শ্বশুরবাড়িতে এসে নগদ ৮ লাখ টাকা ও ভিকটিমের মূল পাসপোর্ট নিয়ে নেয়। কিন্তু ইতালি পাঠানোর কথা বলে সুকৌশলে ভিকটিমকে লিবিয়ায় পাচার করে অজ্ঞাতনামা এক মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটক রেখে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে নির্যাতনের সেই দৃশ্য ভিডিও কলে দেখিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।

পরে হাসানকে জীবিত উদ্ধারের আকুল আবেদন নিয়ে তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন বিভিন্ন সময়ে নগদ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আসামিদের হাতে মোট ৫৬ লাখ টাকা তুলে দেন। এরপরও পাচারকারীরা আরও টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে টাকা ফেরত ও হাসানকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বললে প্রধান অভিযুক্ত ইমরান লেনদেন অস্বীকার করে হুমকি দেয় এবং যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরবর্তীতে হাসানের বেঁচে থাকা বা মৃত্যুর বিষয়ে কোনো খোঁজ না পেয়ে তার ভাই বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনাটি দেশজুড়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে এসআরবি-৮ সিপিসি-৩ মাদারীপুর ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম পটিয়ায় অভিযান চালিয়ে মামলার মূল হোতা ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। মানবপাচার ও এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে এসআরবির এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button