বাংলাদেশ

স্বৈরাচার পয়সা দিচ্ছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা টিভি ডেস্ক: দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শক্তি সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে এবং দেশের ভেতরে আরেকটি পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, দেশের কয়েকটি স্থানে কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শক্তি এসব তৎপরতায় অর্থায়ন করছে। দেশের ভেতরে থাকা আরেকটি পক্ষের সঙ্গে তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি পক্ষ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিচ্ছে, অন্য পক্ষ দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এ ধরনের তৎপরতার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, জনগণ বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় সাড়া দেয়নি। ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচি চালু রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পক্ষে থাকলে আগামী পাঁচ বছরও বিএনপিকে সমর্থন দিতে হবে। একই সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন সময়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে—এমন রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের আগে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁদের স্মরণে ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তারেক রহমানের ভাষ্য, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন—দুটোকেই ধারণ করে। জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের চেতনায় বিশ্বাসী বলে দাবি করা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাদের কোনো প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে অসংগতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তাঁর মতে, অতীতের মতো ২০২৪ সালের আন্দোলন নিয়েও জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে কিছু রাজনৈতিক পক্ষ।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button