‘সবচেয়ে খারাপ বাংলাদেশের সাংবাদিকগুলো, এগুলোরে কুত্তার মতো পেটানো দরকার’

বাংলা টিভি ডেস্ক: অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনায় সাংবাদিকদের সমালোচনা করেছেন ইসলামী বক্তা ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন এবং মাদকবিরোধী অভিযানের ইতিবাচক দিক তুলে না ধরার অভিযোগ করেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্বাসী বলেন, ইশরাক হোসেন মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে পিস্তল উঁচিয়ে ধরার পদ্ধতিটি ঠিক ছিল না। তাঁর মতে, অভিযানের উদ্দেশ্য ভালো হলেও সরকার এর দায় নিতে চায়নি।
সাংবাদিকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো মাদকবিরোধী অভিযানের ইতিবাচক দিক তুলে না ধরে বরং ইশরাকের পিস্তল হাতে দৌড়ানোর বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের একটি অংশের ভূমিকা হলুদ সাংবাদিকতার পর্যায়ে পড়ে। তাঁদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সাংবাদিক বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার অর্থায়নে কাজ করেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
আব্বাসীর ভাষ্য, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সংবাদমাধ্যম ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সরকারের সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারত। একই সঙ্গে দেশে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বক্তব্যের আরেক অংশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিচার প্রসঙ্গে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। তিনি বলেন, অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে, তবে নিরীহ নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা যেন কোনো ধরনের ক্ষতির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকেরা সমাজে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের কোনো সমর্থক নেই—এমন দাবি সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আব্বাসীর মতে, যারা অপরাধ করেছে, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। তবে নিরপরাধ ব্যক্তিদের ক্ষমা করে দেওয়াই দেশের জন্য কল্যাণকর হতে পারে।
বক্তব্যের শেষাংশে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এই ইসলামী বক্তা।



