বাংলাদেশ

‘সৌদি জেল থেকে ১৫ দিন আগেও ফোন করেছিল সুইটি’

বাংলা টিভি ডেস্ক: প্রায় চার বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের সুইটি আক্তার। বিদেশে যাওয়ার পর প্রথম পাঁচ মাস নিয়মিত বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরে একদিন ফোন করে পরিবারকে জানান, তাঁকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। এরপর নিয়মিত যোগাযোগ না থাকলেও মাঝেমধ্যে ফোন করে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেন। সর্বশেষ ১৫ দিন আগেও ফোনে জানিয়েছিলেন, কয়েক মাসের মধ্যে কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি সৌদি আরবে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।

সুইটির বাবা ফজল মিয়া জানান, সৌদি আরবে মেয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর তাঁরা বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তবে সরকারি কোনো সূত্র থেকে এখনো বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেননি তাঁরা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামে সুইটিদের বাড়িতে গিয়ে প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা মেয়ের পরিণতি জানতে উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।

পেশায় দিনমজুর ফজল মিয়ার পাঁচ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সুইটি। মেয়েকে সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য প্রায় চার বছর আগে দালালের মাধ্যমে ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। এ জন্য ধারদেনা করে দেড় লাখ টাকা জোগাড় করতে হয়েছিল তাঁকে।

ফজল মিয়া সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সৌদি আরবে যাওয়ার পর প্রথম পাঁচ মাস মেয়ে বাড়িতে টাকা পাঠিয়েছিল। পরে একদিন ফোন করে জানায়, তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।

বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মস্থলে অন্য নারী কর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার পর তাঁকে ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন সুইটি। এরপর প্রায় এক বছর মেয়ের কোনো খোঁজ পাননি তাঁরা। পরে আবার ফোনে যোগাযোগ শুরু হয় এবং প্রায় প্রতি মাসেই বাড়িতে কথা বলতেন সুইটি।

ফজল মিয়া বলেন, মেয়ের বিচার বা সাজার বিষয়ে তাঁকে কখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। বরং সর্বশেষ ফোনালাপেও সুইটি জানিয়েছিলেন, দুই মাস পর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শুনে পরিবারটি হতবাক হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, মেয়ের ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছে, তা তাঁরা জানেন না। সে বেঁচে আছে, নাকি মারা গেছে, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য তাঁদের কাছে নেই।

সুইটির মা জহুরা জানান, তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়েছিল এবং চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সুইটি সৌদি আরবে যাওয়ার পর তার বড় বোন বিউটি শিশুটিকে নিজের কাছে নিয়ে লালনপালন করছেন।

মেয়ের বিষয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট তথ্য চেয়ে জহুরা বলেন, তিনি জানতে চান, তাঁর মেয়ের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছে। জীবিত কিংবা মৃত—যেভাবেই হোক, মেয়ের খোঁজ চান তিনি।

এদিকে, সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর সামনে এলেও তাঁদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সুইটির পরিবারও এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি।

স্থানীয় মহেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, সুইটির বিষয়ে সরকারের কোনো পর্যায় থেকে তাঁদের কাছে তথ্য জানানো হয়নি।

ফলে সৌদি আরবে সুইটির প্রকৃত পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর পরিবার। মেয়ের খোঁজ পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন বৃদ্ধ বাবা-মা।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button