বাংলাদেশ

গোপালগঞ্জে পানির পাম্প থেকে বের হচ্ছে গ্যাস, জ্বলছে আগুন

বাংলা টিভি ডেস্ক: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় একটি সাবমারসিবল পানির পাম্পের পাইপে আগুন ধরিয়ে দিলে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠছে শিখা। সম্প্রতি পাম্পটি থেকে পানি কম ওঠার পর পাইপের মুখে গ্যাস লাইট ধরিয়ে এমন দৃশ্য দেখতে পান এর মালিক। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে পরীক্ষা করে সেখানে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হোক।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলার বান্ধবাড়ি ইউনিয়নের ভাসাই বাজারে গিয়ে পাম্পটি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাসাই বাজারে মাছবাহী বিভিন্ন গাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য প্রায় এক বছর আগে ২৮০ ফুট গভীরতায় একটি সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন করেন হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী কামরুল শেখ। গত এক সপ্তাহ ধরে পাম্পটি থেকে পানি কম উঠছিল। পরে বুধবার দিবাগত রাতে (২৮ অক্টোবর) কৌতূহলবশত পাইপের মুখে গ্যাস লাইট ধরালে আগুন জ্বলে ওঠে বলে জানান তিনি।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কামরুলের দোকানের সামনে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অনুরোধে কয়েক দফায় পাম্পটি চালিয়ে আগুন জ্বলার বিষয়টি দেখানো হয়।

কামরুল শেখ বলেন, মাছবাহী গাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য তিনি পাম্পটি স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে পানি কম ওঠায় বিষয়টি পরীক্ষা করতে গিয়ে পাইপের মুখে আগুন জ্বলে ওঠার ঘটনা দেখতে পান। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় যুবক শিহাব শেখ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তারা আগুন জ্বলার বিষয়টি দেখেছেন। মাটির নিচে সত্যিই গ্যাস রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর দাবি জানান তিনি। তার মতে, সেখানে গ্যাসের মজুত পাওয়া গেলে তা দেশের জন্য সম্ভাবনাময় হতে পারে।

এ বিষয়ে কোটালীপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, খবর পাওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্ট তহশিল কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলেন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জেনেছেন তিনি।

ইউএনও আরও জানান, শুক্রবার তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। এরপর বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে পাম্পের পাইপে আগুন জ্বলার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা জানতে বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button