৪০ দিনে হাতে লেখা কুরআন প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিল ৯ বছরের অরিনা

বাংলা টিভি ডেস্ক: মাত্র ৯ বছর বয়সে অসাধারণ এক কাজ করে আলোচনায় আসে খুলনার শিশু শিক্ষার্থী অরিনা সাফা খান। টানা ৪০ দিনের প্রচেষ্টায় নিজের হাতে পবিত্র কুরআন শরিফের সম্পূর্ণ অংশ লিখে শেষ করেছিল সে। এবার নিজের হাতে লেখা সেই কুরআনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়েছে পঞ্চম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
গত বৃহস্পতিবার খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পায় অরিনা। এ সময় নিজের হাতে লেখা কুরআন শরিফটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেয় সে। প্রধানমন্ত্রীও আন্তরিকতার সঙ্গে উপহারটি গ্রহণ করেন।
পরে একই দিন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুরআন লেখার অভিজ্ঞতা এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুভূতি তুলে ধরে অরিনা।
খুলনার মুজগুন্নী এলাকার বাসিন্দা অরিনা শুকুর আলী খান ও রাশিদা বেগমের দুই সন্তানের একজন। বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খুলনার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে সে। চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে মাত্র ৯ বছর বয়সে কুরআন শরিফ হাতে লেখার কাজ শুরু করে অরিনা। প্রায় ৪০ দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ কুরআন লেখা শেষ করে সে।
প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আসছেন জানতে পেরে তার জন্য বিশেষ কোনো উপহার দেওয়ার কথা ভাবছিল অরিনা। অনেক চিন্তাভাবনার পর নিজের হাতে লেখা কুরআন শরিফটিই উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ, নিজের এই কাজটিকে জীবনের অন্যতম মূল্যবান অর্জন মনে করে সে।
সাক্ষাৎকারে অরিনা জানায়, ‘আমি যে কুরআন শরিফটি হাতে লিখেছি, সেটিই প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়ার কথা ভাবলাম। পরে না হয় আমি আবার একটি লিখে নিতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমবার দেখা করার অনুভূতি জানাতে গিয়ে অরিনা বলে, শুরুতে কিছুটা ভয় ও অস্বস্তি কাজ করছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী আপনজনের মতো আন্তরিকভাবে কথা বলায় ধীরে ধীরে তার জড়তা কেটে যায়। এই বিশেষ অভিজ্ঞতায় সে ভীষণ আনন্দিত। তার ভাষায়, ‘আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো লাগছে আমার।’
পড়াশোনার পাশাপাশি শিশু শিল্পী হিসেবেও পরিচিত অরিনা। ইসলামি সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিচ্ছে সে। তার প্রতিভা বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন খালিশপুরের কনটেন্ট ক্রিয়েটর নাঈম হাসান।
মাত্র ৯ বছর বয়সে হাতে সম্পূর্ণ কুরআন লিখে ফেলা এবং পরবর্তী সময়ে সেই কুরআন দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা অরিনার জীবনে বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে। ছোট্ট বয়সে তার এই উদ্যোগ ও অর্জনের গল্প ইতোমধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।



