বাংলাদেশ

ছুটি ছাড়াই ৪২ শিক্ষককে নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে দুই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা

বাংলা টিভি ডেস্ক: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে এ নির্দেশনার মধ্যেই ফরিদপুরের সদরপুরে ৪২ জন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ছুটি ছাড়াই কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় জাতীয় দিবসের নির্ধারিত কর্মসূচি বিদ্যালয়গুলোতে যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর বিকেলে সদরপুর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করেন উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪২ জন শিক্ষক। তাদের সঙ্গে রয়েছেন দুই সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান ও ঝিল্লুর রহমান। আগামী ৯ নভেম্বর সকালে তাদের এই ভ্রমণ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

দুই কর্মকর্তার মধ্যে হাফিজুর রহমান আকোটেরচর ও সদরপুর ক্লাস্টারের দায়িত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে ঝিল্লুর রহমান দায়িত্ব পালন করছেন চর নাসিরপুর ক্লাস্টারে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে দুই কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান জানান, শিক্ষকরা প্রতিবছরই এ ধরনের ভ্রমণের আয়োজন করেন। এবারও অনেক আগে থেকে ভ্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ৫ নভেম্বর বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় দিবসের কর্মসূচি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন হাতে পান। ওই দিন জেলা পর্যায়ের একটি সভায় অংশ নেওয়ার পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানিয়ে দেন। তবে তিনি কাউকে ভ্রমণের জন্য ছুটি দেননি। বিষয়টি জানানোর পরও তারা ভ্রমণে গেছেন।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, এ ধরনের ভ্রমণের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই। তাই তার কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ারও প্রয়োজন ছিল না। তবে ভ্রমণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টরা ৪ নভেম্বর একটি আবেদন নিয়ে এসেছিলেন। তিনি ওই আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদ্যালয়গুলোতে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা এবং রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন আয়োজন করার কথা রয়েছে। নিয়মিত পাঠদান বন্ধ থাকলেও এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

এমন পরিস্থিতিতে সদরপুরের শিক্ষক ও দুই শিক্ষা কর্মকর্তার কক্সবাজার ভ্রমণ ঘিরে বিদ্যালয়গুলোতে সরকারি নির্দেশনা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button