
বাঙালী লোকজ ঐতিহ্য লাঠিখেলা যখন বিলীন হবার পথে,ঠিক তখন কুষ্টিয়ার মেয়ে রুপন্তি চৌধুরী সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এগিয়ে চলেছেন আপন গতিতে। এ খেলাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে না পারলেও, একজন নারী লাঠিয়াল হিসেবে দেশের গন্ডি পেড়িয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সুখ্যাতি কুড়িয়েছেন।
লাঠিখেলার ধারক-বাহক ওস্তাদ সিরাজুল হক চৌধুরী। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সন্তান রতন চৌধুরী হাল ধরেন। তার মৃত্যুর পর সংকটে পড়ে যায় ঐতিহ্যবাহী এ লোকজ উৎসব।তবে সে অবস্থার উত্তরণ ঘটেছে। ওস্তাদ সিরাজুল হকের হাতেগড়া ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে তাঁরই নাতনী রূপন্তি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রানান্তর। জাতীয় পর্যায়ে কোন স্বীকৃতি জোটেনি তার,তবে একজন নারী লাঠিয়াল হিসেবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
আজকের এ রূপন্তি হয়ে ওঠার পেছনে ছিল নানা প্রতিবন্ধকতা। নিজের প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর পরিবারের সহায়তা তাঁকে উৎসাহ যুগিয়েছে।
জাতীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি এ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সারাদেশে তৃনমুল পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলার স্বপ্ন রুপন্তির। ১৯৩৩ সালে সর্বপ্রথম ওস্তাদ সিরাজুল হক চৌধুরী ”নিখিলবঙ্গ” নামে লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলেন। দেশ বিভক্তির পর ”বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনী” হিসেবে নামকরণ করা হয়। সে সময় ৭ থেকে ১০দিন ধরে চলত লাঠিখেলা উৎসব। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি জাতীয় ফেডারেশনের আওতায় নিয়ে এলে, লাঠিখেলা বেঁচে থাকবে বলে মনে করছেন,সংস্লিষ্টরা।
বাংলাটিভি/শহীদ



