আন্তর্জাতিকইন্ডিয়া

ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে ইচ্ছা করেই ধাক্কা দিয়েছে পাকিস্তানি জাহাজ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর আরব সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। আধুনিক যুদ্ধজাহাজে উন্নত রাডার, নেভিগেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকার পরও কীভাবে এমন সংঘর্ষ ঘটল—তা নিয়েই মূলত আলোচনা চলছে। ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতীয় জাহাজের কাছাকাছি যাওয়ার ফল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সন্দীপ উন্নীথান ঘটনাটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, সমুদ্রে প্রতিপক্ষকে চাপের মধ্যে রাখা বা ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবেও এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

মঙ্গলবার উত্তর আরব সাগরে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজ পিএনএস হুনাইন ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি কলকাতা-শ্রেণির যুদ্ধজাহাজের দিকে উচ্চগতিতে এগিয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। একপর্যায়ে দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পাকিস্তানি জাহাজটির চলাচল ছিল ‘অপেশাদার ও অনিরাপদ’।

সন্দীপ উন্নীথানের মতে, সমুদ্রপথে অন্য জাহাজের গতিপথে বাধা সৃষ্টি করা, পাশ থেকে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করা কিংবা সামনে দিয়ে দ্রুত পথ কেটে যাওয়ার মতো কৌশল বিভিন্ন সামুদ্রিক বিরোধে আগেও ব্যবহৃত হয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও সামুদ্রিক মিলিশিয়ার বিরুদ্ধে এমন আচরণের অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ ঘটনায় পাকিস্তান ও চীনের সামরিক সম্পর্কের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। পাকিস্তান চীনের কাছ থেকে যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন সংগ্রহ করছে এবং দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে নিয়মিত যৌথ মহড়াও হয়ে থাকে। তবে এসব সম্পর্কের কারণে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কৌশলের ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায়, ওমান উপসাগর থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে উত্তর আরব সাগরে ঘটেছে বলে জানা গেছে। সংঘর্ষে দুই জাহাজের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তবে ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল—এমন কোনো স্বাধীন ও নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ভারতীয় নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার মতে, আধুনিক যুদ্ধজাহাজে রাডার, অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (AIS) এবং বিভিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় আশপাশের জাহাজ শনাক্ত করা সম্ভব। তারপরও কোনো কমান্ডার ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য জাহাজের খুব কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা সবসময় সংঘর্ষ ঠেকাতে সক্ষম নাও হতে পারে।

ফলে, পিএনএস হুনাইন ও ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button