
শাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ সাহেদ। এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত ব্যাক্তি। তার প্রতারণার লক্ষ্য শুধু অর্থ উপার্জনই ছিল না; যশ-খ্যাতির জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও কর্মকাণ্ডেও নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন তিনি। আর তাই, বহুমাত্রিক প্রতারক ও নারীলোভী সাহেদের বিভিন্ন অপকর্ম রয়ে গেছে লোকচক্ষুর অন্তরালেই।
মোহাম্মদ সাহেদ গিরগিটির মত রং পাল্টেছেন তিনি। কখনো মেজর, কখনো প্রধানমন্ত্রীর এপিএস, কখনো রাজনীতিবিদ, কখনো সাংবাদিক, কখনো বা বড় ব্যবসায়ী! কখনো আবার লেবাসধারী সুশীল শ্রেণির টেলিভিশন ‘টক শো’র আলোচক।
দীর্ঘদিনের এই অপকর্ম ঢাকতে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করেছেন, দেশের প্রভাবশালী মহলকে। যে তালিকায় ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, পুলিশ, প্রশাসন, সংসদ সদস্য, এমনকি ক্ষমতাসীন সরকারদলীয় মন্ত্রীও।
তাদের সাথে তোলা এসব ছবি প্রদর্শন আর অবৈধ অস্ত্রের কারবারে বিভিন্ন ব্যবসায়ী আর ঠিকাদারদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, পাওনা টাকা চাইতে এলেও উল্টো, শাহেদের নির্যাতন ও পুলিশি হয়রানির মুখে পড়তে হতো অনেককে।
সাহেদের ব্যক্তিগত অফিসের ভিতরে ছিল আলাদা দুটি কক্ষ। এর একটি রঙ্গমঞ্চ ও আরেকটি টর্চার সেল। রঙ্গমঞ্চে অফিসের স্টাফসহ বাইরে থেকে আনা সুন্দরী মেয়েদের নিয়ে চলতো অনৈতিক কার্যকলাপ। ঠিক তেমনি তার কথামত কেউ না চললে অথবা কোন পাওনাদার এলে তার ভাগ্যে জুটত টর্চার সেলের অমানবিক নির্যাতন। নিজ হাতে শারিরীক নির্যাতনেও পৈশাচিক আনন্দ পেতেন সাহেদ।
রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদ রীতিমতো প্রতারণার জাদুকর। তার শিকার হয়ে অনেক ব্যক্তি পথে বসলেও কখনোই থেমে ছিলেন না তিনি। বরং একের পর এক নিপুণ শৈলীর প্রতারণা করেও উৎড়ে গেছেন অবলীলায়।
শাহরিয়ার রাজ, বাংলা টিভি



