বাংলাদেশঅপরাধআইন-বিচার

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি

এসএসসি পরীক্ষায় প্রতারক চক্র ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে। এমন অভিযোগে চক্রের দুই গ্রুপের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ডিবি।

রোববার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেসন্স সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিবিপ্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কালিমুল্লাহ, আল-রাফি ওরফে টুটুল ও আব্দুল্লাহ আল মারুফ ওরফে তপু। তাদের মধ্যে কালিমুল্লাহ টঙ্গী সরকারি কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, আল রাফি টুটুল মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের মানবিকের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও আব্দুল্লাহ আল মারুফ হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

ডিবি জানায়, চক্রের সদস্যরা প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল। তাদের পক্ষে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা অসম্ভব ছিল। কিছু ছাত্র ও অভিভাবক পড়াশোনাতে মনোযোগ না দিয়ে ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্নপত্র কেনার জন্য ব্রাউজ করতে থাকে। গ্রেফতারকৃত প্রতারকরা মূলত এসব অমনোযোগী শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার নানা আকর্ষণীয় প্যাকেজের অফার দিতো ইন্টারনেটের মাধ্যমগুলোতে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে ম্যানুয়ালি ও সাইবার পেট্রলিংয়ের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ছাত্র ও অভিভাবকদের মধ্যে যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের চেষ্টা করে এবং যারা প্রশ্নপত্র কেনার চেষ্টা করে তাদের সবাইকেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের একাধিক টিম ঢাকার উত্তরা, গাজীপুরের পূবাইল থানা এলাকা ও নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় তিনজনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩টি স্মার্টফোন, ২টি বাটন ফোন, নগদ ১২ হাজার টাকা ও ৬টি সিম।

ডিবি প্রধান বলেন, চক্রটি মূলত বিভিন্নভাবে ভুয়া মেসেঞ্জার, ফেসবুক একাউন্ট খুলে মেসেঞ্জারে শতভাগ নিশ্চয়তা সহকারে বিভিন্ন বোর্ডের সকল বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁস করার বিজ্ঞাপন দিত। প্রশ্ন ফাঁসের এই চক্রের কাছ থেকে সাহায্য নেওয়ার জন্য পরীক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবকদের প্রাথমিকভাবে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে সদস্য হতে হতো। এরপর প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিতো। এই চক্র বিভিন্ন পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের এই বলে সার্কুলেশন করত যে, ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলা ও জেলা থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্ন বহনকালে দায়িত্বশীলদের একজন কৌশলে একাধিক প্রশ্ন সরিয়ে রেখে ছবি তুলে পাঠিয়ে দেবে।

বাংলাটিভি/শহীদ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button