মৃত্যুর আগেই নিজের কবর নিজেই প্রস্তুত করেছেন গাইবান্ধার লতিফ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা সদর উপজেলায় নিজের কবর নিজ হাতে তৈরি করে আলোচনায় এসেছেন আব্দুল লতিফ সরকার। জীবিত অবস্থাতেই কবর নির্মাণের পাশাপাশি সেটিকে দৃষ্টিনন্দন করতে মিনার, গম্বুজ ও টাইলস বসিয়েছেন তিনি। প্রতিদিন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও করেন নিজেই।
সাহাপাড়া ইউনিয়নের খামারপীরগাছা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ স্থানীয় একটি স্কুলে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে ১৯৮৫ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি খোলাহাটী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত আছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে নিজের কবর নিজ হাতে তৈরির চিন্তা মাথায় আসে। পরে ২০১১ সালে বাড়ির সামনে একটি ছোট পুকুর ভরাট করে শুরু করেন নির্মাণকাজ। কবরের নকশা, আকার ও পরিমাপ নিজেই নির্ধারণ করেন এবং নিজ হাতে খননও করেন। পরে ধাপে ধাপে ইটের কাজ, পিলার, গম্বুজ ও টাইলসের কাজ সম্পন্ন করেন। হাতে অতিরিক্ত অর্থ এলেই তিনি কবরের সৌন্দর্য বাড়াতে ব্যয় করেন।
শুধু কবর নির্মাণ নয়, মৃত্যুর পরের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও আগেভাগে সম্পন্ন করেছেন তিনি। দাফনের কাপড় কিনে কেটে রেখেছেন, এমনকি গোসলের জন্য সাবান, গোলাপজলসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীও সংগ্রহ করে রেখেছেন। ২০১৩ সালে গ্রামের মানুষদের দাওয়াত দিয়ে নিজের “চল্লিশা” আয়োজন করেও এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেন।
প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষে প্রথমেই নিজের কবর দেখতে যান আব্দুল লতিফ। কোথাও ময়লা বা অগোছালো কিছু দেখলে নিজেই পরিষ্কার করেন। পরিবারের সদস্যদেরও বলে রেখেছেন, মৃত্যুর পর যেন তাকে এই কবরেই দাফন করা হয় এবং কবরের পরিচর্যা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি ব্যতিক্রমী হলেও আব্দুল লতিফ একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। অবসরের বেশিরভাগ সময়ই তিনি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটান। তার এই উদ্যোগকে অনেকে মৃত্যুচিন্তা ও ধর্মীয় অনুশীলনের অংশ হিসেবেই দেখছেন।
রাস্তার পাশে নির্মিত হওয়ায় প্রতিদিনই কৌতূহলী মানুষ ভিড় করছেন কবরটি দেখতে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকেও অনেকে সেখানে যাচ্ছেন।



