
বাংলা টিভি ডেস্ক: বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘি থেকে একমাত্র মিঠাপানির কুমির সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারের প্রধান খাদেম। তিনি কুমিরটিকে দ্রুত আগের স্থানে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি কুমিরের আক্রমণে এক শিশুর মৃত্যুর পর প্রশাসন ও বন বিভাগ জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রাণীটিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিরটিকে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক শতাব্দী ধরে মাজার ও দিঘির ঐতিহ্যের সঙ্গে কুমির জড়িয়ে আছে। তার মতে, বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনার কারণে এই ঐতিহাসিক সম্পদ সরিয়ে নেওয়া উচিত হয়নি। বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে কুমিরটিকে সংরক্ষণ করা যেত।
তিনি আরও দাবি করেন, কুমির দেখতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দর্শনার্থীরা আসেন এবং এটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। তাই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কুমিরটিকে পুনরায় দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, অনেক দর্শনার্থী নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তাদের মতে, ভবিষ্যতে প্রাণহানি এড়াতে উপযুক্ত বেষ্টনী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, মিঠাপানির কুমির বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত বিরল একটি প্রজাতি। ভবিষ্যতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ওই এলাকায় কুমির সংরক্ষণ বা প্রজনন কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে পারে।
এ বিষয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কুমিরটিকে তার উপযোগী পরিবেশেই রাখা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।



