দেশবাংলা

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে হবিগঞ্জের বীর সিংহপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

নানা সমস্যায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের বীর সিংহপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী থাকলেও,নেই শ্রেণীকক্ষ ও শিক্ষক।মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ের মাঠে চলে পাঠদান।।২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলেও এখনো পর্যন্ত মেলেনি কোন সুযোগ সুবিধা।দ্রুত বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের দাবী স্থানীয়দের। মাধবপুর প্রতিনিধি হামিদুর রহমানের পাঠানো তথ্য ও চিত্রে বুলবুল আহমেদের ডেস্ক রিপোর্ট।

স্থানীয়দের অনুদান ও সরকারী সামান্য বরাদ্দ নিয়ে ১৯৯৪ সালে নির্মিত ৭০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের টিনশেডের ছোট তিনটি শ্রেণীকক্ষে চলে পাঠদান। সামান্য বৃষ্টি হলেই ক্লাস ছুটি দিয়ে দিতে হয়।

অর্থ ও শিক্ষকের অভাবে একসময় বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়।পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াছমিনসহ অন্যান্য শিক্ষিকাদের নিজস্ব অর্থায়নে ভবনের জন্য ৩৩ শতক জমি ক্রয় করে বিদ্যালয়ের নামে দিয়ে দেন।

বর্তমানে ২’শর ওপরে শিক্ষার্থী ও ৪ জন শিক্ষক রয়েছে।এ বিদ্যালয়ের ২ কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অনেক কষ্ট করে এখানে পড়ালেখা করতে হয়। নতুন ভবন তৈরি, শ্রেণীকক্ষ সম্প্রসারন,আসবাবপত্র,পয়নিস্কাসন ব্যবস্থাসহ নানা সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।

নতুন ভবন নিমার্ণের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান,বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি। নতুন ভবন নির্মানসহ সব ধরণের সহায়তা দিয়ে দরিদ্র কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দেবে সংশ্লিষ্টরা,এমন প্রত্যাশা মাধবপুরবাসীর।

নানান সমস্যায় র্জজরিত মাধবপুরের বীর সিংহ পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে পর্যাপ্ত ছাত্র-ছাত্রী, কিন্তু নেই পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ, শিক্ষক ও বেঞ্চ। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীর জায়গা না হওয়ায় মাঝে মাঝে বিদ্যালয় মাঠে ও গাছ তলায় চলে বিদ্যালয়ের পাঠদান।

২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয় করণ হলেও এখনো পাচ্ছেনা কোন সুযোগ সুবিধা। স্থানীয়দের অনুদান ও সরকারী মেরামতের সামান্য বরাদ্দের টাকা দিয়ে নির্মিত ৭০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ প্রস্থের একটি টিনশেড ঘরে চলছে কার্যক্রম। গাদাগাদি করে ছোট ছোট তিনটি শ্রেণী কক্ষে চলে এ পাঠদান কার্যক্রম। আবার বৃষ্টি হলেই বাধ্য হয়ে ছুটি দিয়ে দিতে হয় বিদ্যালয় ।

এমন জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়ে চলছে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের বীরসিংহ পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। দ্রুত বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের দাবী শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের।

একালাকার কিছু শিক্ষানুরাগী বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন ১৯৯৪ সালে । অর্থ ও শিক্ষকের অভাবে এক সময় বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়।২০০৯ সালে পূর্ণরায় বিদ্যালয়টিতে আবার নতুন শিক্ষক নিয়োগ করে স্থানীয় উদ্দ্যোগে বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্য্যক্রম চালু করা হয়। পরে  বিদ্যালয়ের নিয়োগকৃত প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াছমিন,সহকারী শিক্ষিকা পারভীন আক্তার,আনোয়ারা বেগম,পাপিয়া সুলতানা নিজস্ব অর্থায়নে ভবনের জন্য ৩৩শতক জমি ক্রয় করে বিদ্যালয়ের নামে দান করেন।বর্তমান সরকার বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি তৃতীয় ধাপে জাতীয় করণ করে।

বর্তমানে প্রাক প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ২০৩ জন শিক্ষার্থী ও ৪ জন শিক্ষক আছে এ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের ২ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আর কোন বিদ্যালয় না থাকায় গ্রাম এলাকার দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা অনেক দূর দূরান্ত থেকে গিয়ে ওই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে।বীরসিংহপাড়া গ্রামের দারিদ্র কোমলমতি শিশুদের এটিই একমাত্র ভরসা।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য-আমাদের বিদ্যালয়টি অনেক জরাজীর্ণ।এছাড়া বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়টির মাঠে পানি লেগে থাকে। খেলাধুলা করতে পারিনা। কক্ষগুলো ছোট ছোট হওয়ায় গরমে অস্থির হয়ে পড়ি এবং বৃষ্টি হলে স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে হয় না হলে  বৃষ্টির পানিতে বই খাতা ভিজে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াছমিন- বিদ্যালয়টি অনেক জরাজীর্ণ। এছাড়া বসার বেঞ্চ ও টেবিল নাই। কক্ষগুলো ছোট ছোট হওয়ায় গরমে অস্থির হয়ে পড়ি। শিক্ষামূলক কর্মকান্ডে এবং ফলাফলে বিদ্যালয়টি এগিয়ে থাকলেও ভবন না থাকায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। নতুন ভবন তৈরি, শ্রেণী কক্ষ সম্প্রসারন,আসবারপত্র,পয়নিস্কাসন ব্যবস্থার সমস্যা, পানীয় জলের নানা সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন ।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহাব উদ্দিন মেম্বার-এই বিদ্যালয়ের অগ্রাধিকার ভিত্ত্বিতে ভবন নিমার্ণের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। আশা রাখি অতি দ্রুতই ভবন নিমার্ণ হবে।

ধর্মঘর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ শামছুল ইসলাম কামাল বিদ্যালয়ের নানান সমস্যার বিষয়ে আমরা অবগত হয়ে উপজেলার সভাতে আলোচনা করেছি। উপজেলার সমন্বয় সভায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণে সুপারিশ করা  করার ফলে নতুন ভবন নিমার্ণের জন্য মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে ।

-হামিদুর রহমান, মাধবপুর, হবিগঞ্জ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close