দেশবাংলা

হবিগঞ্জে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

||কাজল সরকার, হবিগঞ্জ||

সদর উপজেলার গোপায়া ইউনিয়নের পুর্ব ভাদৈয়ে ইট সলিং রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

১নং ইটের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্ন মানের ইট। সেই সাথে ওই রাস্তার পুরাতন ইট উত্তোলন করে আবার ধুয়ে মুছে ব্যবহার করছে কতিপয় ঠিকাদার।

এ অবস্থায় কাজের মান নিয়ে স্থানীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন। আর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রতিদিন কাজের অগ্রগতি ও মান পরিদর্শন করার কথা থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পরিদর্শনে যাননি একবারও।

এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজসে রাস্তার ঠিকাদার সোহেল মিয়া নিম্ন মানের ইট ও বালু ব্যবহার করে রাস্তার কাজ করে যাচ্ছেন।

জানা যায়, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৫নং গোপায়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নদীর চড়ের পুর্ব ভাদৈ জামে মসজিদ থেকে আসামপাড়া পুরাতন রাস্তার সংযোগ সড়ক। সরকারের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের পিআইও প্রকল্পের অধিনে ৮ ফুট প্রস্থ ও ১ হাজার ৬শ ২০ মিটার ইট সলিং রাস্তা নিমার্ণ কাজের বরাদ্দ দেয়া হয়। এতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৩৮ লাখ টাকা।

কিন্তু ঠিকাদার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে নিম্ন মানের কাজ করে যাচ্ছেন। নির্মাণ কাজের ইস্টিমিটে স্পষ্টভাবে সম্পুর্ণ নতুন ফ্রিকেট ইট ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা থাকলেও ঠিকার সোহেল মিয়া ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলে পুরাতন, নিন্মমানের ইট ও বালু ব্যবহার করছেন বলেও স্থানীয় অভিযোগ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ একটি রাস্তা নির্মাণ করা হলে আর ১০ বছরের মধ্যে ওই রাস্তায় কোন সংস্কার কাজ করা হয় না। যার ফলে রাস্তাগুলো এমনিতেই খুব বেশি দিন টেকশই হয় না। এর মাঝে রাস্তায় নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হলে অল্প দিনের মধ্যেই আবারো রাস্তা ভেঙ্গে খানাখন্দকে ভরে যায়।

এলাকাবাসীর দাবী উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা কাজের মান পরিদর্শন করে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি প্রথমে কথা বললেও গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দেয়ার পর লাইনটি কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ ব্যাপারে ঠিকাদার সোহেল মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী মর্জিনা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি স্থানীয়দের কাছ থেকে শোনেছি। প্রকল্প এলাকা পরিদর্শণ করে যদি অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাটিভি/এবি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close