এই শোকরানা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের

কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্নাতকোত্তরের সমমান দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
করে আয়োজিত ‘শোকরানা মাহফিলে’ প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,
‘এই শোকরানা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের। সবকিছু আল্লাহর উপরেই ছেড়ে দিয়েছি।
যতদিন বাঁচবো ততদিন যাতে মানুষের সেবা করে যেতে পারি, কল্যাণ করে যেতে পারি— এটাই আল্লাহর কাছে চাওয়া।’
রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা
‘হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’র ব্যানারে এই শোকরানা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্মীয় শিক্ষা সংযুক্ত করা হলেই একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ হয়।
আর এ জন্যই সংসদে আইন পাস করে কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
তাই সাধারণ শিক্ষার মতোই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কওমি শিক্ষার্থীদের দেশ ও জাতির কল্যাণে
কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এই সনদের মাধ্যমে তারা চাকরি পাবে, দেশে বিদেশে কাজ করতে পারবে
— এই সুযোগটা আমরা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য করে দিয়েছি, যাতে তারা সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে।’
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
বাংলাদেশের একটি মানুষও যাতে ক্ষুধার জ্বালায়, রোগে ভুগে কষ্ট না পায় সেজন্য সবাইকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
ইসলামের প্রসারে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,
‘আমরা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট করে দিয়েছি, মসজিদে যারা শিক্ষা দেন তাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে জমায়েত হচ্ছেন আলেমরা
প্রায় ৮০ হাজার ওলামা এ থেকে উপকৃত হচ্ছেন। তারা ভাতা পাচ্ছেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারো ক্ষতি বা অমঙ্গল নয়, আমরা সবসময় চিন্তুা করি মানুষের মঙ্গলের কথা
— কীভাবে তাদের জীবন আরও উন্নত করা যায় সেই চিন্তাই আমরা করি।’
বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিবাদের স্থান হবে না— একথা পুনরায় উল্লেখ করে তিনি বলেন,
জঙ্গি-সন্ত্রাসের স্থান বাংলাদেশের মাটিতে হবে না, মাদকের স্থান হবে না। বাংলাদেশ হবে শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ একটি দেশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবহার করে করা চালানো অপপ্রচার বিশ্বাস না করার আহ্বান
জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার ক্রামই আইন করা হয়েছে।
কেউ স্যোশাল মিডিয়া বা অন্য কোনো মাধ্যমে ধর্ম বা মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করতে পারবে না।
কটূক্তি করলে তাদের বিচারের জন্য আমরা সাইবার ক্রাইম আইন করে দিয়েছি।
নিজের জীবন নিয়ে আর কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই জানিয়ে তিনি বলেন,
‘আল্লাহর কাছে শুধু এটুকুই চাই— বাংলাদেশের মানুষ যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে,
আল্লাহ যেন তাদের সহায় হোন— এটাই আমি আল্লাহর কাছে চাই।’
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আলেম-ওলামাদের দোয়া চান।
তিনি বলেন, ‘সামনেই নির্বাচন। সবকিছু আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।
আল্লাহ যদি চান আবারও ক্ষমতা এসে মানুষের সেবা করবো।
আর আল্লাহ যদি না চান তাহলেও আমার কোনো আফসোস থাকবে না।
হেফাজতে ইসলামের আমির ও আল হাইয়াতুল উলা লিল জামিয়াতুল কওমিয়ার
চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফী মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন।
মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘কওমি-জননী’ উপাধি দেওয়া হয়।
এছাড়া আল্লামা শফী প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুকরিয়া স্বারক তুলে দেন।
বাংলাটিভি/এসএম/এবি



