বিএনপিরাজনীতি

শেষ পর্যন্ত জামায়াতকে ২২ আসনে ছাড় বিএনপির

শেষ মুহূর্তে এসে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামীকে ২২টি আসনে ছাড় দিয়েছে বিএনপি।

এসব আসনে জামায়াত প্রার্থীরা বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে লড়বেন বলে নিশ্চিত করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এ টি এম আবদুল হালিম।

তবে এর বাইরেও আরো অন্তত ১৫টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জামায়াত নেতারা। আজ রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।

গতকাল শনিবার রাতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আসন সংখ্যা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না জামায়াত নেতারা। গতকাল রাত এবং আজকে সকালে আরো আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত ২২টি আসনে সমঝোতা হয়।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী এ দলটির নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে ২০ দলীয় জোটের অন্যান্য শরিক ও ঐক্যফ্রন্টের মতো তাদেরও ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হচ্ছে। ২০ দলের শরিক শুধু এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ নিজ দলের প্রতীক ‘ছাতা’ নিয়ে লড়াই করবেন।

জামায়াতে ইসলামী যে ২২টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে সেগুলো হচ্ছে :

পিরোজপুর-১ শামীম বিন সাঈদী; ঢাকা-১৫ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান; কুমিল্লা-১১ সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের; চট্টগ্রাম-১৫ শামসুল ইসলাম ও কক্সবাজার-২ হামিদুর রহমান আজাদ।

ঠাকুরগাঁও-২ আবদুল হাকিম; দিনাজপুর-১ মোহাম্মদ হানিফ; দিনাজপুর-৬ আনোয়ারুল ইসলাম; নীলফামারী-২ মনিরুজ্জামান মন্টু; নীলফামারী-৩ আজিজুল ইসলাম; রংপুর-৫ গোলাম রব্বানী; গাইবান্ধা-১ মাজেদুর রহমান সরকার; সিরাজগঞ্জ-৪ রফিকুল ইসলাম খান; পাবনা-৫ ইকবাল হুসেইন; ঝিনাইদহ-৩ মতিউর রহমান; যশোর-২ আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদত হোসাইন; বাগেরহাট-৩ আবদুল ওয়াদুদ; বাগেরহাট-৪ আসনে আবদুল আলিম; খুলনা-৫ মিয়া গোলাম পরওয়ার; খুলনা-৬ আবুল কালাম আযাদ; সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আবদুল খালেক ও সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলাম।

এবারের নির্বাচনে ৩৯টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ৩০০ সংসদীয় আসনে তিন হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা পড়ে মোট দুই হাজার ৫৬৭টি, আর স্বতন্ত্র ছিল ৪৯৮টি।

মনোনয়নপত্র বাছাইকালে দুই হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর মধ্যে আপিলের আবেদন করেন ৫৪৩ জন। গত তিন দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন মোট ২৪৩ জন।

নির্বাচন আচরণবিধিমালা অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের ২১ দিন আগে প্রার্থীরা প্রচার শুরু করতে পারেন। ৩০ ডিসেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সে হিসেবে ১০ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু হচ্ছে।

বাংলাটিভি/এবি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close