অন্যান্যঅপরাধদেশবাংলাবাংলাদেশ

কক্সবাজারে ২৯ ইয়াবা গডফাদারসহ আত্মসমর্পণ করলেন ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ী

অনেক জল্পনা-কল্পনার পর মাদক চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে আজ শনিবার সকাল ১০টায়  টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আত্মসমর্পণ করেন। এ নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফসহ জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানে ক্রসফায়ারে প্রায় প্রতিদিনই ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নিহতের ঘটনার মধ্যে এই আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর থেকেই শতাধিক চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে পুলিশ হেফাজতে চলে যান।এদিকে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে দম ফেলার ফুরসত নেই যেন পুলিশ প্রশাসনে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দফায় দফায় অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন। টেকনাফ পাইলট হাই অনুষ্ঠানি সামনে রেখে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠান সফল করতে সহযোগিতা কামনা করেছেন টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মো. জাবেদ পাটোয়ারী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন এতে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন।

টেকনাফ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি এম এস দোহা জানান, সকালে কক্সবাজার পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকা শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসা হয়।

যারা আত্মসমর্পণ করেছে

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছে- টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দা আবদুস শুক্কুর, শফিকুল ইসলাম শফিক, আমিনুর রহমান ওরফে আবদুল আমিন, ফয়সাল রহমান, সাবেক এমপি বদির ভাগনে সাহেদ রহমান নিপু, আরেক ভাগিনা টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূরুল বশর ওরফে নূরশাদ, মং সিং থেইন ওরফে মমসি, ফুপাতো ভাই কামরুল হাসান রাসেল, মারুফ বিন খলিল বাবু, বেয়াই সাহেদ কামাল, টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলমের ছেলে দিদার মিয়া, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল হুদা, টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এনামুল হক এনাম মেম্বার, সাবরাং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন দানু মেম্বার, হ্নীলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জামাল মেম্বার, সাবরাং ইউপির শাহপরীর দ্বীপের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার রেজাউল করিম রেজু মেম্বার, উত্তর আলী খালির শাহ আজম ও সাবরাং নয়াপাড়ার আলমগীর ফয়সাল লিটন, শীলাবুনিয়া পাড়ার হাজি সাইফুল করিমের দুই শ্যালক জিয়াউর রহমান ও আবদুর রহমান, টেকনাফের পশ্চিম লেদার নুরুল কবির, হ্নীলা সিকদারপাড়ার সৈয়দ আহম্মদ সৈয়দ, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত নাজিরপাড়ার জিয়াউর রহমানের ভাই আবদুর রহমান, নাজিরপাড়ার সৈয়দ হোসেন, নাইটংপাড়ার ইউনুস, ডেইলপাড়ার জাফর আলম, জাহাজপুরার নুরুল আলম, হ্নীলার রশিদ আহম্মদ ওরফে রশিদ খুলু, সদরের ডেইলপাড়ার আব্দুল আমিন ও নুরুল আমিন, টেকনাফ সদরের উত্তর লম্বরি এলাকার করিম মাঝি, হ্নীলা ফুলের ডেইলের রুস্তম আলী, শামলাপুর জুমপাড়ার শফিউল্লাহ, একই এলাকার সৈয়দ আলম, রাজাছড়ার আব্দুল কুদ্দুছ, মধ্যম জালিয়াপাড়ার মোজাম্মেল হক, জাহেলিয়াপাড়ার মোহাম্মদ সিরাজ, কচুবনিয়ার আব্দুল হামিদ, নাজিরপাড়ার মোহাম্মদ রফিক, পল্লানপাড়ার মোহাম্মদ সেলিম, নাইটংপাড়ার রহিমউল্লাহ, নাজিরপাড়ার মোহাম্মদ হেলাল, চৌধুরীপাড়ার মোহাম্মদ আলম, সদর ইউনিয়নের মৌলভীপাড়ার একরাম হোসেন, হ্নীলার পূর্ব পানখালির নজরুল ইসলাম, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের তুলাতলি এলাকার নুরুল বশর ওরফে কালা ভাই, হাতিয়ার ঘোনার দিল মোহাম্মদ, একই এলাকার হাসান, সাবরাং নয়াপাড়ার নূর মোহাম্মদ, কচুবনিয়ার বদিউর রহমান ওরফে বদুরান, জালিয়াপাড়ার জুবায়ের হোসেন, হ্নীলার পূর্ব লেদার জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

বাংলাটিভি/রাজ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close