
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা ক্লিনিক গুলোতে নানা রকম অনিয়ম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। প্রয়োজন ছাড়াই চলছে গর্ভবতী মায়েদের সিজার অপারেশন। আর এসমস্থ অপারেশন করা হয় অদক্ষ ডাক্তার দ্বারা। অধিকাংশ সময়ে ডাক্তার না থাকলে ক্লিনিক মালিক ও ওটি বয়রা সিজার অপারেশন করে যাচ্ছে হরহামেশাই। ক্লিনিক গুলোতে অনেকে ভুয়া ডাক্তার সেজে সিজার অপারেশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপচিকিৎসা করে রোগীদের সাথে চরমভাবে তামাশা শুরু করেছে। ঘটছে নানা রকম দূর্ঘটনা। অদক্ষ ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিক নিজেরাই অধিকাংশ সময় রোগীদের অপারেশন করে থাকেন। এ জন্য প্রায়ই রোগী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। তাদের অপরাধ ধাপাচাপা দেওয়ার জন্য বিনিময় হচ্ছে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেন। চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি ক্লিনিক বাদে বাকি সব জায়গাগুলোতেই চলে একই অবস্থা। কর্তৃপক্ষের সঠিক নজর দারীর অভাবে এসকল ক্লিনিক গুলো গরীব রোগীদের ঠকিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা লুটে রমরমা ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
জীবননগর হাসাদাহে জনতা ক্লিনিকে নোংরা পরিবেশে ভুয়া ডাক্তার সেজে ক্লিনিক মালিকের ভুল চিকিৎসায় মারা যায় প্রসুতি মা । মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার সময় এ ঘটনা ঘটে। রোগীর পরিবারের দাবী ভুল অপারেশনের কারনে তাদের গৃহবধুর করুন মৃত্যু হয়েছে। এঘটনার পর ক্লিনিক মালিক ও ডাক্তাররা গাঁ ঢাকা দিয়েছে ।
পারিবাবরিক সুত্রে জানা গেছে,সোমবার উপজেলার হাসাদহ হাইস্কুলের সামনে জনতা ক্লিনিক এন্ড নার্সিং হোম সেন্টারে হাসাদাহ মাঝের পাড়ার রেজাউল ইসলামের স্ত্রী রশিদা খাতুন (২৮ পেটে ব্যাথা উঠলে তাকে রাতে জনতা ক্লিনিকে সিজারের জন্য ভর্তি করে । জনতা ক্লিনিকের মালিক রানা রোগীর সিজারের জন্য মহেশপুর প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে ডাঃ আনিসুজ্জামানকে নিয়ে আসেন । এ সময় ডাক্তারের ভুল অপারেশনে রোগীর অতিরিক্ত ব্লিডিং হলে ডাক্তার রোগীর অবস্থা বেগতি দেখে ক্লিনিক থেকে পালিয়ে যায়। এবং ক্লিনিক মালিক বিষয়টি অন্য দিকে প্রবাহিত করে রোগীর পরিবারের সদস্যদের বলে আপনাদের রোগীর পেটে একটা টিউমার আছে এটা অপারেশন করতে হলে বাইরে নিয়ে যেতে হবে । এই বলে রোগীকে জনতা ক্লিনিক থেকে রেফার করে দেয় ক্লিনিক মালিক । অবশেষে রোগীর পরিবারের সদস্যরা নিরুপায় হয়ে জীবননগর শহরের আখসেন্টারের সামনে মা ক্লিনিকে নিলে সেখানে ক্লিনিক কতৃপক্ষ রোগীর অবস্থা আশস্ক জনক দেখে যশোরে নেওয়ার পরামর্শ প্রদান করে । তাদের পরামর্শ মত যশোরে নেওয়ার পথিমধ্যে রোগীর মৃত্যু হয়।
নিহত রশিদার স্বামী রেজাউল ইসলাম বলেন,আমার স্ত্রী সুস্থ ছিলো পেটে ব্যাথা উঠলে আমি জনতা ক্লিনিকে নিয়ে যায় সেখানে রাতে ডাঃ আনিস অপারেশন করে বের হতে না হতেই ক্লিনিক মালিক আমাকে বলে তোমার স্ত্রী পেটে বড় টিউমার হয়েছে এখানে অপারেশন করা যাবে না বাইরে নিয়ে অপারেশন করতে হবে । তার জন্য আরও ২ হাজার টাকা বেশি দিতে হবে । আমি তাতেও রাজি হই। পরবর্তীতে ক্লিনিক মালিক আমার স্ত্রীকে অন্য ক্লিনিকে ভর্তি করার পরামর্শ দেয় । তার কথা মত মা ক্লিনিকে নিলে তারা বলে রোগীর অবস্থা ভালো না যত দ্রুত পার যশোরে নিয়ে যাও এ সময় যশোরে নেওয়ার পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।
জনতা ক্লিনিক এন্ড নার্সিং হোমের মালিক রানার সাথে কথা বললে তিনি বলেন রোগীর অতিরিক্ত ব্লিডিং হওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়। এতে আমাদের বা ডাক্তারের কোন দোষ নেই।
ডাঃ আনসিুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন,রোগীর অবস্থা তেমন ভালো ছিলো না, তা ছাড়া আমি তো আর ইচ্ছে করে মারি নাই। মৃত্যু হলে আমারতো কিছু করার নাই।
মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ নাসির উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ডাঃ আনিসুজ্জামান নামে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেউ চাকুরী করে না ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনতা ক্লিনিক কিংবা অন্যকোন ক্লিনিকে ভুল অপারেশনে কয়েকটি রোগী মারা গেলেও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়নি। আর ক্লিনিক মালিকগুলো একের পর এক চিকিৎসার নামে হত্যা করেও দাপটের সাথে ক্লিনিক চালাচ্ছে । এলাকাবাসীর প্রশ্ন, এত অপরাধ করার পরও প্রশাসন নিরব কেন?
এ ব্যাপারে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)শেখ গনি বলেন, হাসাদহর জনতা ক্লিনিকে যে ঘটনা, শুনেছি। তবে এঘটনায় থানায় এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাংলা টিভি/ মামুন মোল্লা
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি



