জনদুর্ভোগদেশবাংলা

দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এখনও বিপৎসীমার উপরে বইছে মনু, ধলাই ও কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদীর পানি। নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে ধলাই নদীর বাঁধে। হুমকিতে মনু নদী বাঁধ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন মৌলভীবাজার জেলার ২৫টি ইউনিয়নের মানুষ। গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে ডুবে গেছে ৪ উপজেলার দুইশতাধিক গ্রাম। মানবেতর দিনকাটাচ্ছেন পানিবন্দী অন্তত ৪ লাখ মানুষ। অপরিবর্তিত রয়েছে লালমনিরহাট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণার অবস্থা। বগুড়ার সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি চতুর্থ দিনের মত বিপৎসীমার উপরে বইছে। পানিবন্দি রয়েছেন জামালপুরের দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।

সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে যমুনার পানির স্তর। ২০১৭ সালে ১৩৪ সেন্টিমিটার পানির রেকর্ড ভেঙে বর্তমানে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট এলাকার পানি বিপদসীমার ১৩৭ সেন্টিমিটারে ওপরে অবস্থান করছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) আব্দুল মান্নার এ তথ্য দিয়ে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০১৭ সালে এ পয়েন্টে সর্বোচ্চ পানি বিপদসীমার ১৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে ছিল ১২১ সেন্টিমিটার ওপর।

এদিকে বন্যায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে জামালপুরের ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কার্যত পানির নিচে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, বাসভবন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়সহ সব দাফতরিক কার্যালয় এখন পানির নিচে। এরইমধ্যে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে পানি উঠায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রেল লাইনে পানি উঠায় ঝুঁকি নিয়ে রেল চলছে। যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে রেল যোগাযোগও।

উপজেলা ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে সাতটি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়েছে বলে ইউপি’র চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন। উপজেলা সদর থেকে গুঠাইল বাজার, উলিয়া বাজার, শিংভাঙ্গা, কুলকান্দি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বন্যায় ইসলামপুর-উলিয়া এবং ইসলামপুর-গুঠাইল ও ইসলামপুর-কুলকান্দি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইসলামপুরের ৮৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে রয়েছে।

বাংলাটিভি/প্রিন্স

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close