বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ত্রাণ সংকটে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন পার করছেন বন্যাকবলিত মানুষ। রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।
গত দুদিনে সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি কিছুটা কমলেও কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন বানভাসী মানুষ। বাড়ি-ঘরে পানি,ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। বাঁধে কিংবা উচুস্থানে আশ্রয় নিয়ে কোনরকমে দিন কাটছে তাদের। বেশী কষ্টে আছে নারী ও শিশুরা। ১৫ দিন পানিবন্দী থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের উপার্জন বন্ধ।জেলা প্রশাসন থেকে ত্রাণ বরাদ্দ দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল, অভিযোগ বন্যাকবলিত মানুষের।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন একযোগে বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সকালে যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৫সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায়, জেলার ৬২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৪ হাজার ১শ ১৬টি পুকুরসহ প্রায় ২২ কোটি টাকার মাছ,মুরগীর খামার,২৪ হাজার হেক্টর ফসলের মাঠ। বন্যা কবলিত এলাকায় ১হাজার ১শ ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৬০টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৮ হাজার বানভাসী মানুষ ।
কমতে শুরু করেছে নওগাঁর আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে এবং গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জেলার আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়, আত্রাই নদীর ডান তীর এবং শহরবাড়ি ভাঙ্গীপাড়ার বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এছাড়া রানীনগর উপজেলার ছোট যমুনা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে মান্দা,রানীনগর ও আত্রাই উপজেলার প্রায় ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে,লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছেন।
তবে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায়, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা।
বাংলাটিভি/ রিয়েল



