নদীর বাঁধ সংস্কারের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন

হামিদুর রহমান, মাধবপুর : হবিগঞ্জে বন্যা নিয়ন্ত্রণে নদীর বাঁধ সংস্কারের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। গত ২ বছরের গবেষণায় এটি বেশ কার্যকরী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। নতুন এ পদ্ধতিতে বাঁধ সংস্কার করলে তা শুধু ১শ বছর টেকসই হবেনা, সাশ্রয় হবে অর্থেরও।
ইতোমধ্যে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল সংক্রান্ত এবং নাগরিক সেবায় সেরা উদ্ভাবনের পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছেন উদ্ভাবক পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম।
হবিগঞ্জে আবাদযোগ্য ভূমির পরিমান ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯শ ৫৩ হেক্টর। জেলার ২২ লাখ জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে স্বল্প জমিতে অধিক ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার যেমন আবশ্যক, তেমনি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেই পদক্ষেপ গ্রহণও জরুরী। জেলায় ৪শ ৬২ দশমিক ৩০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে।
এরমধ্যে ২শ ৫০ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ। প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ এ বাঁধ সংস্কারে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় হয়। এ পরিস্থিতিতে ২ বছর আগে স্থায়ী পদ্ধতি আবিষ্কারে কাজ শুরু করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম।
স্থানীয় জনগনের দাবি নদীর তীরের বাকি দুর্বল অংশগুলোও যেন একই পদ্ধতিতে সংস্কার করা হয়। কেননা এর সুফল আমরা নিজ চোখে দেখতে পাচ্ছি। তাই সংস্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গনকবলীত অংশগুলো একই পদ্ধতিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেবে এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
পরিক্ষামুলকভাবে দেখা গেছে জিও ব্যাগে যদি রোদের আল্ট্রাভায়োলেটরে না লাগে তবে তা ১শ বছরেও পঁচবেনা বলে দাবি করেন এর উদ্ভাবক হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাওহীদুল ইসলাম।
তিনি আরো বলেন, এ পদ্ধতিতে দেখানো হয়, নদী খনন করে যে বালু উত্তোলন করা হবে তা ১০ থেকে ৩০ মিটার লম্বা জিও ব্যাগে ভর্তি করে বাঁধের ভেতরে দেয়ার পর সেটি মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হবে। এর ওপর ঘাস লাগানো হবে। পরিক্ষামূলকভাবে মাধবপুর উপজেলার সোনাই নদীতে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করার পর অধিকতর দুর্বল এ বাঁধ আরো মজবুত হয়েছে।
ইতোমধ্যে এ পদ্ধতি বেশ কার্যকারী সেটা প্রমাণিত। সময় এখন বৃহত আকারে প্রয়োগের।



