বিশ্ববাংলা

‘হেরা গুহা’ ইসলামের একটি প্রসিদ্ধ স্থান

ইসলামের ঐতিহাসিক নিদর্শনাবলীর অন্যতম একটি স্থান, হেরা গুহা বা গারে হেরা। মানব জাতির মুক্তির দিক নির্দেশনা সম্বলিত গ্রন্থ এবং প্রিয় নবীর শ্রেষ্ঠ মুজেজা, সবশেষ ও সেরা আসমানি কিতাব কোরআনে কারিম দুনিয়ার বুকে সর্ব প্রথম এই স্থানটিতে নাজিল হয়। ইসলামের এই প্রসিদ্ধ স্থানটি সম্পর্কে জেনে নিন কিছু তথ্য।

মক্কা শরিফ থেকে ছয় কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি পাহাড়ের নাম জাবালে নূর। এই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি গুহাকে বলা হয়- ‘গারে হেরা’ বা ‘হেরা গুহা’। নবুওয়ত লাভের পূর্বে নবী করিম (সা.)এই গুহায় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন।

সর্বপ্রথম কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার স্থান হিসেবে এই গুহা প্রসিদ্ধ। ইসলাম অনুযায়ী শবে কদরে আল্লাহর তরফ থেকে ফেরেশতা জিব্রাইল এই গুহায় সর্বপ্রথম মুহাম্মাদ (সা) এর কাছে কুরআনের বাণী নিয়ে এসেছিলেন।

গুহাটির আয়তন ৬ থেকে ৭ বর্গফুট। দর্শনার্থীরা এখানে এসে নামাজ পড়েন। চেষ্টা করেন কিছু সময় ধ্যান বা মোরাকাবা করার। এই পাহাড়টিকে নিচ থেকে দেখলে মনে হয় খুব বেশি উঁচু নয়। কিন্তু পাহাড়টির উচ্চতা ৫৬৫ মিটার। এমনকি জাবালে নূরে যাওয়ার জন্য যেখানে গাড়ি দাঁড়ায়, সেই স্থানটিও প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ ফুট ওপরে।

সমতল থেকে এটুকু পথ গাড়িতে ওঠা যায়। কেউ অবশ্য এটুকু হেঁটেও উঠতে পারেন। আবার কেউ গাড়ি নিয়ে ওঠেন।

দশনার্থীরা যাতে পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে পারেন, সেজন্য পাথর কেটে কেটে সিঁড়ি বানানো হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও পাইপ বা চিকন রডের রেলিং দেয়া আছে। পাহাড়ের চুড়ায় ওঠার পথে বিশ্রাম নেয়ার জন্য রয়েছে পাঁচটি বিশ্রামাগার।

মূলত এখানে নির্জনবাসের কারণ ছিলো- পাপ বর্জন করা, সব ধরনের অন্যায় থেকে দূরে থাকা, একত্ববাদের আদর্শে অটুট থাকা, মূর্তিপূজা পরিহার করে পূণ্য কাজে মনোনিবেশ করা।

এস এইচ হেমায়েত, মক্কা প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close