দেশবাংলা

ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ নিয়ে হুমকির মুখে কুতুবদিয়া

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপটি দিনদিন ছোট হয়ে আসছে। ১৯৯১ সালের ঘুর্ণীঝড়ের পর থেকে দ্বীপের বিশাল অংশ সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেছে। অনেকের বসতভিটা সাগরে বিলীন হওয়ায় অন্যত্র বসবাস করতে বাধ্য হয়েছে। ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ মেরামত না করায় ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে দ্বীপের দেড়  লাখ মানুষ।

এমনই অবস্থায় নিজেদের বসতভিটা রক্ষায় স্বেচ্ছায় বেড়ীবাধ নির্মাণ করছে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থরা। আর এ কাজে সহযোগিতা করছে একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা।

উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিন দিকে বঙ্গোপসাগর আর পূর্বে কুতুবদিয়া চ্যানেল। মাঝখানে ২শ ১৫ দশমিক ৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে সাগরের বুকে ভেসে থাকা দ্বীপ, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলা। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কুতুবদিয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা।

১৯৯১ সালের ঘুর্ণীঝড়ের পর থেকে, কুতুবদিয়ার বিরাট অংশ সাগর বক্ষে চলে গেছে। আর এখন দ্বীপের এক তৃতীয়াংশ বেড়িবাঁধ অরক্ষিত। ২০১৬ সালে বেড়িবাঁধ মেরামতের টেন্ডার হয়। আর ২০১৮ সালে কাজ শুরু করলেও বেড়িবাঁধ মেরামত হয়নি। ভাঙ্গা বেড়িবাধ দিয়ে প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে ১৫টি গ্রাম।

সমস্যায় পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও। অনেকেই চাষাবাদ করতে পারছেনা। এমন অবস্থায় নিজেদের বসতভিটা রক্ষায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের সহযোগিতায় স্বেচ্ছায় বেড়ীবাধ নির্মাণ করছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থরা।

একটি বেসরকারী সংস্থার সহযোগিতায় সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বেড়িবাধ নির্মান করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

সামুদ্রিক জোয়ারের ফলে ভাঙ্গা বেড়িবাধ দিয়ে পানি প্রবেশের কথা শিকার করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তনয় কুমার ত্রিপুরা জানান, ঝুকিপুর্ণ স্থানে অতি দ্রুতই কাজ করা হবে।

টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে টিকে থাকা নিয়ে উদ্বিগ্ন, দ্বীপের দেড় লাখ মানুষ। তাদের স্বাভাবিক বসবাস ও জানমাল রক্ষার্থে টেকসই বেড়িবাঁধ পুণ:নির্মান করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

অন্যথায় ইতিহাস থেকে এ দ্বীপটি হারিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন সুধি সমাজ।

আমিনুল হক আমীন, কক্সবাজার

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button