দেশবাংলা

জয়পুরহাটে হিল্লা বিয়ের ফতোয়া জারি করে সমাজচ্যুত

হিল্লা বিয়ের ফতোয়া থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না, জয়পুরহাটের সহজ-সরল মানুষ। আক্কেলপুর উপজেলার উত্তর বিষ্ণাপুর গ্রামে হিল্লা বিয়েতে রাজি না হওয়ায়, সমাজচ্যুত হয়ে স্বামী আব্দুল সাত্তার এখন ঘর ছাড়া। স্ত্রী মাহমুদা মার খেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদের এক পর্যায়ে তালাক শব্দ উচ্চারণ করলেই, ওই দম্পতির ওপর নেমে আসে সমাজপতিদের ফতোয়া। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে, পুলিশ প্রশাসন।

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের উত্তর বিষ্ণাপুর গ্রামের আব্দুল সাত্তার ও মাহমুদা বেগম দম্পতি। চারটি সন্তান রয়েছে তাদের ঘরে। সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে  তালাক দিলাম শব্দটি বলে ফেলে স্বামী আব্দুল সাত্তার।

জানতে পেরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোকলেছুর রহমান বাদেশ এবং ঐ গ্রামের সমাজপতিরা ঘরোয়া বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়, মাহমুদা তালাক হয়েছে, তাকে অন্যত্র হিল্লা বিয়ে দিতে হবে।

এ হিল্লা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় স্বামী ঘর ছাড়া এবং চার সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী মাহমুদা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ব্যাপারে মাহমুদা থানায় অভিযোগ করতে যাওয়ার খবর শুনে, মেম্বার-মাতব্বরের ছেলে ও তার সহযোগীরা মারধর করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তবে অভিযুক্ত স্থানীয় ইউপি সদস্য মোকলেছুর রহমান বাদেশ, মারধর এবং হিল্লা বিয়ে দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

আইনজীবি ও মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট আরাফাত হোসেন মুন বলছেন হিল্লা বিয়ের বিষয়টি আইন বহির্ভূত এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন, জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সাজ্জাদ হোসেন।

এসব আইন বিরোধী ফতোয়াবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও হিল্লা বিয়ে বন্ধ হোক এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

রেজাউল করিম রেজা, জয়পুরহাট প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button