পর্যটক আকর্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে দিরাইয়ের শতবর্ষী পদ্মকানন

পদ্মফুলের দেশ বাংলাদেশ। যদিও এখন আর এ ফুল সচরাচর দেখা যায় না। কবির কবিতায় আর লেখকের গল্পেই আমরা পদ্মফুলের দেখা পাই। কিন্তুু সুনামগঞ্জের হাওরের জনপদের বিশাল একটি সরকারী বিলে শতবর্ষী পদ্মকানন রয়েছে সেখানে হাজার হাজার গাছে ফুল ফুটে আছে। এটি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের পদ্ম বিল।
সুনামগঞ্জের পদ্মকানন হিসেবে পরিচিত শতবর্ষী পদ্ম বিলকে সরকারিভাবে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর। এটি জেলার দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের লছিমপুর গ্রামে অবস্থিত এই পদ্মবিল।
এই বিল ৭.৩৩ একর সরকারের খাস খতিয়ানের জায়গার এ বিলে শতবছর পূর্ব থেকে পদ্মফুল ফুটে আসছে।প্রাকৃতিকভাবেই বিশাল এ জায়গা জুড়ে পদ্মফুল ফুটে থাকে।
২০১৮ সালের ১০ আগষ্ট শুক্রবার দুপুরে বিলের পাড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর উদ্বোধনের মাধ্যমে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম।
ফুলের রূপ উপভোগ করতে প্রতিদিন পর্যটক প্রেমিরা সৌন্দর্য দেখতে আসেন। এই ফুলে প্রকৃতি প্রেমীদের মন নেচে ওঠে।
কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন শত শত পর্যটকের আগমন এই পদ্মবিলে হলেও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও তাদের জন্য কোন আবাসন ব্যবস্থা এবং উন্নতমানের হোটেল মোটেল না থাকায় তাদের অনেকেই পদ্মবিলটি দেখতে এসে অনীহা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর ফলে ভুগান্তিতে পড়ছে পর্যটকরা।
তাই স্থানীয়দের দাবি দ্রুত এই সড়ক মেরামত সহ এখানে ভাল মানের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট করে দেয়ার।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রতন কুমার দাস জানালেন,‘এই পদ্মবিল যদি সংরক্ষণ করে রাখা যায় তাহলে এই হাওরপাড়ের মানুষের জন্য একটি উন্নত বিনোদনের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত দেব জানালেন, ‘হাওরের প্রাকৃতিক জনপদ হিসেবে খ্যাত পর্যটনের এলাকা সুনামগঞ্জ। দিরাই ও শাল্লা এই দুই উপজেলার মধ্যে হলেও পদ্মবিল প্রকৃতিক পর্যটনের একটি জায়গা।
এখানে পর্যটকদের আনোগোনা বাড়ছে দিন দিন। দিরাই শ্যামারচর রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং এই রাস্তাটি সংস্কার হলে পর্যটকদের আগমন এরা বেশী হবে।
পদ্মবিল উন্নয়নের জন্য টুরিজম বোর্ডের পক্ষে এখানে পর্যটকদের জন্য একটি ভাল মানের হোটেল ও নেস্টুরেন্ট করা হবে এবং ইতিমধ্যে যাত্রীছাউনী করা হয়েছে যেখানে বৃষ্টি আসলে পর্যটরা আশ্রয় নিতে পারবেন। পাশপাশি এখানে একটি ভাসমান রেস্টুরেন্ট ও সুন্দর্য্যে বধর্নের জন্য কাজ চলবে বলেও উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে নির্বাহী অফিসার বলেন, এই দিরাই টু শ্যামারচর রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ১৩ কোটি টাকার বরাদ্দ হয়েছে।
এই পদ্মবিলকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট করার পরিকল্পনা উপজেলা প্রশাসনের রয়েছে এবং এখানে একটি ভাসমান রেস্টুরেস্ট শীঘ্রই করা হবে বলেও জানান তিনি।
শাহরিয়ার সুমন, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি



