আন্তর্জাতিকএশিয়া

‘প্রথমে‌ মসজিদটা ভাঙা হল, এবার রায় দেয়া হলো সেখানে মন্দির হবে’

চারশো-পাঁচশো বছর ধরে একটা মসজিদ একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল। সেই মসজিদকে আজ থেকে ২৭ বছর আগে ভেঙে দেওয়া হলো। এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত (সুপ্রিম কোর্ট) রায় দিয়েছে, ‘বাবরি মসজিদের স্থলে মন্দির হবে’।

তবে, রায়টা কিসের ভিত্তিতে দেয়া হলো, সবটা ঠিক বুঝতে পারছি না, বলে মন্তব্য করেছেন, অশোককুমার গঙ্গোপাধ্যায়, ভারতীয় বিচারপতি (অবসরপ্রাপ্ত)।

তিনি বলেন, ভারতের সর্বোচ্চ আদালত একটা রায় দিলে তাকে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজে পাচ্ছি না। ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

অশোককুমার গঙ্গোপাধ্যায় আরও বলেন, বাবরি মসজিদ যে ওখানে ছিলো, সে আমরা সবাই জানি। বাবরি মসজিদ যে গুন্ডামি করে ভেঙে দেওয়া হল, সেটাও আমরা দেখেছি। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট মেনেও নিয়েছিলো যে, অন্যায় ভাবে মসজিদটা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু ১৫২৮ সালের আগে ওখানে রাম মন্দির ছিল কি না, আমরা কেউ কি নিশ্চিত ভাবে জানি না। রাম মন্দির ভেঙেই বাবরি মসজিদ তৈরি করা হয়েছিলো, এমন কোনও অকাট্য প্রমাণ কেউ দাখিল করতেও পারেননি।

তা হলে আজ এই নির্দেশ এল কী ভাবে? যেখানে একটা মসজিদ ছিল বলে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই মেনেছে, সেখানে আজ মন্দির বানানোর নির্দেশ সেই সুপ্রিম কোর্টই দিচ্ছে কোন যুক্তিতে? এখানে, স্বাভাবিকভাবেই কিছু প্রশ্ন ওঠে আসে।

কালকে যদি আমি বলি, আপনার বাড়ির নীচে আমার একটা বাড়ি রয়েছে, এটা আমার বিশ্বাস, তা হলে কি আপনার বাড়িটা ভেঙে জমিটা আমাকে দিয়ে দেবেন ?

এর আগেও সুপ্রিম কোর্টে অযোধ্যার এই মামলা  উঠেছে। তখন, বছরের পর বছর ধরে নামাজ পড়া, সেই স্থানকে মসজিদ হিসেবে মান্যতা দেওয়া উচিত, এ কথা আদালত মেনে নিয়েছিলো।

সাংবিধানিক নৈতিকতা বলে তো একটা বিষয় রয়েছে! এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়, যাতে দেশের সংবিধানের উপর থেকে কারও ভরসা উঠে যায়। আজ অযোধ্যার ক্ষেত্রে যে রায় হল, সেই রায়কে হাতিয়ার করে ভবিষ্যতে এই রকম কাণ্ড আরও ঘটানো হবে না, সে নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে কে ?

আনন্দবাজার পত্রিকাতে প্রকাশিত অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় বিচারপতি অশোককুমার গঙ্গোপাধ্যায়ের দেয়া সাক্ষাৎকারের অংশ বিশেষ তুলে ধরা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button