দেশের বিভিন্নস্থানে ফসলি জমির ক্ষতি

অবশেষে বড় ধরণের কোনো ধ্বংসযজ্ঞ না চালিয়েই বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ত্যাগ করলো ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। দেশের বিভিন্নস্থানে এ ঝড়ের প্রভাবে ফসলি জমির ক্ষতির পাশাপাশি ভেঙ্গে পড়েছে কাঁচা ঘড়বাড়ি।
দেশের বিভিন্নস্থানে থেমে থেমে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন থেকে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন সহায়তা। এদিকে তিন সমুদ্র বন্দর থেকে মহাবিপদ সংকেত প্রত্যাহার করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।
প্রবল শক্তি নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। শনিবার রাতে বুলবুলের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন জনপদ। ঝড়ের দাপটে গাবুরা ইউনিয়নের ৮০ শতাংশ কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ হয়েছে।
বেঁড়িবাধ ভেঙে জলোচ্ছাসের আশংকা দেখা দেয়। এছাড়া রাস্তায় গাছ পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নসহ অনেক এলাকা বিদ্যুত ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, ইতোমধ্যে ২২ হাজার স্বোচ্ছাসেবক, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, নৌবাহিনী ও ১শ সেনা সদস্য উপকুলীয় এলাকায় জানমাল রক্ষায় কাজ করছেন।
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে এখন পর্যন্ত ভোলায় ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস বইছে। এছাড়া জেলার লালমোহন উপজেলার গজারিয়া, লর্ডহার্ডিঞ্জ ও চরফ্যাশন উপজেলার ও সুমানগঞ্জ এলাকায় ৩০টি কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত এবং ঘর ও গাছ ভেঙ্গে পড়ে ২০ জন আহত হয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণ করার জন্য ২ বান্ডিল টিন, ৬ হাজার করে টাকা ও চাল দেয়া হবে। গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।
বাকেরগঞ্জে বুলবুলের প্রভাবে সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে এবং বৈরী আবহাওয়া অবস্থা বিরাজ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রে রাতে শুকনো খাবার,ঔষধ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ সহ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তত রয়েছে
পিরোজপুরে রাস্তাঘাটে ২শ ২৮ টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত ছিল। তবে মঠবাড়িয়া উপজেলার মাঝের চড়ের লোকজন স্থানীয় সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে। তবে সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে জেলার সর্বত্র, পানি বেড়েছে নদীতে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ফয়লা, আলাইপুর, নরেন্দ্রপুর, কোলা, দামোদারপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে মাঠের পর মাঠ পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে।
কালীগঞ্জ কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এ বছর আমন মৌসুমে ১৮ হাজার ৫’শ ৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল।
ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলা টিভি



