ভৈরবে চলছে ডোবা-নালা ভরাটের মহোৎসব

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চলছে খালবিল ডোবা নালা ভরাটের মহোৎসব। কোনরকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা, একের পর এক ভরাট করে গড়ে তুলছেন বিভিন্ন স্থাপনা। এতে পৌর শহরে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
ফলে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর এলাকার রাস্তাঘাট নির্মাণসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হলেও, জলাবদ্ধতার কারণে অল্প দিনেই এসব রাস্তা নষ্ট হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
জলাভূমি ভরাট করে অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে পৌর শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ভরাবহ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পাশাপাশি, মৎস্য সম্পদ ও জীব বৈচিত্র বিলুপ্ত হতে চলেছে।
এছাড়া ভৈরব বাজারের অধিকাংশ এলাকা দূর্গন্ধ ও দূষিত পানিতে নিমজ্জিত হয়ে থাকায়,পরিবেশ বির্পযস্ত হয়ে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। সেই সঙ্গে জরুরী অগ্নিনির্বাপনের জন্য পানি উৎসের সংকটও দেখা দিচ্ছে।
পৌর এলাকা ও শহরতলীর মনমারা খাল, পঞ্চবটির কানাই খাল, কালিপুর বাদশাবিল, নিউটাউন ও নাটালের পেছনের বিল, আনোয়ারা জেনারেল হাসপাতালের পেছনে ডোবাভরাট করে, আবসন প্রকল্প, ভবন ও স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায় বর্তমানে ভৈরবে রেকর্ডভূক্ত সরকারি খালের ভূমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬৪ একর। এর মধ্যে শ্রেণী বিবর্তিত হয়ে নিচু ভূমিতে পরিণত হয়েছে প্রায় সোয়া ছয় একর। অভিযোগ রয়েছে এর পুরোটাই স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের দখলে।
দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে খাল বিল ভরাট রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান, ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার মোঃ আনিসুজ্জামান।
তবে, শুধু আশ্বাসের বানী নয় ভূমিদস্যুদের হাত থেকে খাল-বিল ডোবা নালা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায় পৌরবাসী।
এম আর সোহেল, ভৈরব প্রতিনিধি



