আওয়ামী লীগরাজনীতি

ভাসানী থেকে শেখ হাসিনা : গৌরবময় ৭০ বছর

আ. লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন, পর্ব--১

ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর। তিন বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দলটি। এখন চলছে সাজসজ্জা কাজ।

দীর্ঘ ৭০ বছর রাজপথের নানা আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্বে দেয়া দলটিতে ভাসানী কিম্বা বঙ্গবন্ধুর উত্তরসুরীরাই নেতৃত্বে আসবেন, এমন প্রত্যাশা দলের শুভাকাঙ্খী-সমর্থকদের। এছাড়া সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আসতে পারেন নতুন নেতৃত্ব এমন মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি আর শামসুল হক কে সাধারণ সম্পাদক করে ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ। একই বছরের ২৩ ও ২৪ জুন পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে নতুন দল গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এক সম্মেলন আহ্বান করা হয়।

এতে সবার সম্মতিতে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি আর  শামসুল হককে করা হয় সাধারণ সম্পাদক। এ কমিটিতে কারাবন্দী শেখ মুজিবুর রহমানকে দেয়া হয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব।

পরবর্তীকালে, ১৯৫৫ সালে মওলানা ভাসানীর উদ্যোগে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনটির নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে রাখা হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ।

১৯৫২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরের বছর ঢাকার মুকুল প্রেক্ষাগৃহে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সম্মেলনে তাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন শেখ মুজিব।

১৯৪৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত দলটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০টি সম্মেলন। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত চারটি কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। এরপর ওই বছর একটি বিশেষ কাউন্সিলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ। ১৯৬৪ সালে দলের পঞ্চম কাউন্সিলে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন।

সভাপতি পদে ছিলেন ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত।  ওই বছর ষষ্ঠ কাউন্সিলে দলের সভাপতি হন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সভাপতি পদে ছিলেন। ১৯৭৪ সালে দশম কাউন্সিলে সভাপতি হন এ এইচ এম কামরুজ্জামান। ১৯৭৫ সালে ঘাতকের গুলিতে কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত হন তিনি।

এরপর ১৯৭৮ থেকে ৮১ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন আবদুল মালেক উকিল। ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে দলের সভাপতি পদে আছেন শেখ হাসিনা। দলের ১৩তম কাউন্সিলে তিনি প্রথম সভাপতি হন। সর্বশেষ ২০তম কাউন্সিলেও তিনি একই পদে নির্বাচিত হন।

এই সময়কালে দলটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন মোট নয় জন। ১৯৪৯ সালে দলের প্রথম কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক। এরপর ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত দলের দ্বিতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ৬৬ থেকে ৭২ পর্যন্ত তিন মেয়াদে এ দায়িত্বে ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

এরপর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তী দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক হন আবদুর রাজ্জাক। ১৯৮৭ সালে সাধারণ সম্পাদক হন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। ছিলেন ১৯৯২ সাল পর্যন্ত। এরপর জিল্লুর রহমান আবারও দুই মেয়াদে ২০০২ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

২০০২ সালের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হন আবদুল জলিল। ছিলেন ২০০৯ সাল পর্যন্ত। ওই বছর দলের ১৮তম কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন ২০১৬ সাল পর্যন্ত। তারপর একই বছরে নবম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন ওবায়দুল কাদের। পরবর্তী তিন বছরের জন্য তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এরই মধ্যে ২১তম জাতীয় সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নানা আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্বে দেয়া এই সংগঠনটি।  আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে হয়ত আবারও নতুন নেতৃত্ব সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আসতে পারেন- এমনটাও মনে করছেন দলটির স্বজন-শুভাকাঙ্খীরা।

বুলবুল আহমেদ, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close