
বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জনের দিন মহান ও গৌরবের বিজয় দিবস আজ। পরাধীনতার শেকল ছিন্ন করে ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে অভ্যূদয় ঘটে স্বাধীন-স্বার্বোভৌম বাংলাদেশের। অবসান ঘটে পাকিস্তানি শাসক গৌষ্ঠীর সাড়ে ২৩ বছরের নির্বিচার শোষণ-বঞ্চনা আর নির্যাতেনের।
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। ঝরে গেলো ৩০ লাখ তাজা প্রাণ। পাকিস্তানিদের নীলনকশার শিকারে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মাধ্যমে দেশ হলো মেধাশূন্য।
সব কিছু ছাপিয়ে অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পাকিস্তানের জন্মের ইতিহাসে সুপ্ত ছিল ধ্বংস হওয়ার বীজ। অতঃপর সাড়ে ২৩ বছরের বঞ্চনা শেষে নানা সংগ্রামের পথ ধরেই একাত্তরের এই দিনে বাঙালি অর্জন করে মহান বিজয়।
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। জেনারেল নিয়াজির নির্দেশে ভোর ৫টা থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে পাক বাহিনী। সকালে আত্মসমর্পনের চিঠি নিয়ে মিরপুর দিয়ে ঢাকায় ঢোকে সাহসী চার মুক্তিযোদ্ধা। দুপুরে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেজগাঁও বিমানবন্দরে এসে নামেন যৌথবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। তাকে অভ্যর্থনা জানান জেনারেল নিয়াজি।
বিকেল পৌনে ৫টায় ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে আসেন পরাজিত পাকিস্তানি বাহিনীর জেনারেল নিয়াজি। ৫টায় ময়দানের টেবিলের দিকে এগিয়ে যান যৌথবাহিনীর কমান্ডার জেনোরেল অরোরা।
৫টা এক মিনিট। আগে তৈরি করা দলিলে মিত্র বাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন জেনারেল অরোরা। পরাজয় মেনে নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর জেনারেল নিয়াজির স্বাক্ষরে স্বীকৃতি পায় স্বাধীন সার্বোভৌম বাংলাদেশ। আর এর মধ্য দিয়েই চূর্ণ হয়ে যায় পাকিস্তানের দম্ভ।
নয় মাস দু:স্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে বাঙালি জাতির জীবনে এলো হাজার বছরের কাঙ্খিত স্বাধীনতা। বাঙালি জাতি তার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করে নিজস্ব ভূখন্ডে উঁচু করে ধরলো লাল-সবুজের পতাকা।



