১১ বছরে ৩৪ হাজারেরও বেশি শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফিরেছে

গত ১১ বছরে দেশে এসেছে প্রায় ৩৪ হাজার ৩৮৫ জন শ্রমিকের মরদেহ। এরমধ্যে গত ৯ মাসেই এসেছে ৩ হাজার ৬৬৮ জনের। গড়ে প্রতিদিন দেশে আসছে অন্তত ১১ জন প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ।
প্রবাসে বাড়ছে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর সংখ্যা। এ কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা দুর্ঘটনা বলা হলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রকৃত কারণ জানা যায় না। অনেকেই আবার ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় বিদেশ গিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১১ বছরে দেশে বিদেশ থেকে মরদেহ এসেছে ৩৪ হাজার ৩৮৫ জনের। এগুলোর মধ্যে ২০০৯ সালে ২ হাজার ৩১৫, ২০১০ সালে ২ হাজার ৫৬০, ২০১১ সালে ২ হাজার ৫৮৫, ২০১২ সালে ২ হাজার ৮৭৮, ২০১৩ সালে ৩ হাজার ৭৬, ২০১৪ সালে ৩ হাজার ৩৩৫, ২০১৫ সালে ৩ হাজার ৩০৭, ২০১৬ সালে ৩ হাজার ৪৮১, ২০১৭ সালে ৩ হাজার ৩৮৭ ও ২০১৮ সালে এসেছে ৩ হাজার ৭৯৩ জনের মরদেহ দেশে এসেছে।
আর চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বিদেশ থেকে এসেছে প্রায় ৩ হাজার ৬৬৮ জনের মরদেহ। এর মধ্যে ৬২ শতাংশ প্রবাসী মারা গেছেন স্ট্রোকে। স্বাভাবিক মৃত্যু পাওয়া গেছে মাত্র ৫ শতাংশ প্রবাসীর। বাকিদের মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগে, দুর্ঘটনা, হত্যা বা আত্মহত্যার কারণে।
এর বাইরে অনেক প্রবাসীর মরদেহ বিদেশেই দাফন করা হয়। বিশেষ করে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে এমনটা বেশি দেখা যায়।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের দেয়া তথ্যমতে, গত ১৪ বছরে ৪০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফিরেছে। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। আর মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশের মধ্যে শুধুমাত্র সৌদি আরব থেকে এসেছে ৩১ শতাংশ শ্রমিকের মরদেহ।
অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা একাধিক সংস্থা বলছে, প্রবাসে গিয়ে শ্রমিকরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের পাশাপাশি অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় মেটাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয় তাদের। এতে তারা প্রচুর মানসিক চাপে থাকে। ফলে বেশিরভাগ প্রবাসীর মৃত্যু হয় স্ট্রোকে, হৃদরোগ আর দুর্ঘটনায়।
আর নারীদের বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয় নির্যাতন অথবা আত্মহত্যায়। কিন্তু প্রকৃত সত্য বের হচ্ছে না। এজন্য অস্বাভাবিক মৃত্যু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগী হওয়া উচিত। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করাটা জরুরি।–বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম



