ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দুপুরে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ (শনিবার)। বর্ণাঢ্যভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় এই সংগঠনের জন্ম হয়। উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও পুরোনো ছাত্র সংগঠন এটি।
সকাল সাড়ে ৬টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সব সাংগঠনিক কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সকাল সাতটায় শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে। বেলা আড়াইটায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগ পুনর্মিলনীর আয়োজন করেছে। এতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে সংগঠনটির যে সুনাম, স্বাধীনতা পরবর্তী ৪১ বছরে তা অনেকটাই ম্লান নেতাকর্মীদের নানাবিধ নেতিবাচক কর্মকান্ডে। যদিও সংগঠনটির সাবেক নেতৃত্ব ছাত্রলীগের ভুলগুলোকে শিশুসুলভ দাবি করলেও ইতিহাসবিদের মতে, ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না পারার দায় এড়ানোর সুযোগ তাদের নেই।
ইতিহাসবিদ ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ আদর্শহীন ও লক্ষ্যবিচ্যুত। চাঁদাবাজি, হত্যাসহ নানা কর্মকান্ডে তাদের ইতিহাসকে কলুষিত করেছে। সেখানে ছাত্রও নাই লীগও নাই। ছাত্রলীগকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সংগঠনটির অগ্রজদের এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন, সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।
এমন হতাশার বাণী সাত দশক পেরিয়ে আসা দেশের অন্যতম ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিয়ে হওয়ার কথা ছিলো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারি বলেছেন, শিশুসুলভ ভুল এড়িয়ে সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা ছাত্রলীগ তার আত্মপরিচয়কে তুলে ধরবে। ছাত্রলীগ ভোগী এবং লোভী হবে না বলেও মনে করেন ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি।
ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মাঝপথে দায়িত্বপাওয়া ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, অপকর্মে জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না। প্রতিটি নেতাকর্মীকে অপকর্ম থেকে দূরে রাখতে নজরদারির পাশাপাশি সংগঠনের হারানো সুনাম ফিরিয়ে আনাই মূল লক্ষ্য হবে বলে জানান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।
দেশকে এগিয়ে নিতে ছাত্রলীগকে ছাত্রলীগ হয়ে ওঠার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।



