দেশবাংলা

ঘুষ দিতে না পারায় ছেলের চাকরি হয়নি, অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধার

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার কাটালী মীরপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সলিমউদ্দিন ঘুষ দিতে না পারায় ছেলের চাকরি হয়নি। সেই ক্ষোভে মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মান নিতে অস্বীকৃতি জানান। পাশাপাশি পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়া দাফনের নির্দেশ দেন অভিমানী এই মুক্তিযোদ্ধা।

ইতোমধ্যে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছেন এবং এর অনুলিপি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীসহ বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে।

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরী পদে ৮ লাখ টাকা ঘুষ দিতে না পারায়, চাকরী হয়নি মুক্তিযোদ্ধা সলিমউদ্দিনের ছেলের। ক্ষোভে দুঃখে অভিমানে তিনি জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন, মৃত্যুর পর যেন তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে দাফন করা না হয়। এ আবেদনের অনুলিপি তিনি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়সহ পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দপ্তরে।

তার অভিযোগ, ২০১৮ সালে আটোয়ারী উপজেলার ১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ দেয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে সলিমউদ্দিনের ছেলে সাহিবুল ইসলাম দাড়খোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আবেদন করেন এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন।

কিন্তু নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধার কোটা না মেনে, নিয়োগ কমিটি অর্থের বিনিময়ে সাদেকুল নামে অন্য এক প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়।

এ ঘটনায় ২০১৮ সালে নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে সলিমউদ্দিনের ছেলে মামলা করলে, আদালত নিয়োগ কমিটিকে শোকজ করে ৫ দিনের মধ্যে তার জবাব দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু শোকজের জবাব না দেয়ায় মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ স্থগিতাদেশ দেন আদালত।

এদিকে, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়েও নৈশ্য প্রহরী পদে তার চাকরি না হওয়ায় বিস্মিত গ্রামবাসীও। নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানান, জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন।

গেলো ৩১ অক্টোবর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি প্রেরণ করেও উপজেলা প্রশাসন ও নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যাবস্থা গ্রহণ করেনি জেলা প্রশাসন।

ডিজার হোসেন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close