দেশবাংলা

ইসলামপুর গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পে ৫০ পরিবার

জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনা নদীর ভাঙ্গনে নিঃস্ব পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ঠাই করে দিচ্ছে সরকারের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প। প্রতিবছর নদী ভাঙ্গনের শিকার যমুনা তীরবর্তী মানুষগুলো এখন আশ্রয় নিয়েছে চরবরুল গুচ্ছগ্রামে। এতে ঠাঁই হয়েছে ৫০টি পরিবারের। বিনামূল্যের ঘর পেয়ে আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা।

নুরজাহান বেগম। প্রায় ১২ বছর আগে বিয়ে হয়, পাবনার জহুরুল ইসলামের সাথে। ২০০৯ সালে পাবনা থেকে জামালপুর যাওয়ার পথে, সিরাজগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় ডান হাত হারান তিনি। একমাত্র মেয়ে জান্নাতী তখন তার গর্ভে। সড়ক দূর্ঘটনায় হাত হারানোর পর, স্বামী আর খোঁজ নেয়নি তার।

দেখতে আসেনি একমাত্র মেয়ের মুখটিও। সদ্যজাত শিশু জান্নাতীকে নিয়ে নুরজাহানের আশ্রয় হয়, বিধবা মায়ের ঘরে। কিন্তু বছর না ঘুরতেই, নদী ভাঙ্গনে হারিয়ে যায় শেষ সম্বল আশ্রয়টুকুও।

সরকারের দেয়া বিনামূল্যের চরবরুল গুচ্ছগ্রামে ঘর পেয়ে, একমাত্র মেয়ে জান্নাতী আর বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তিনি। শুধু নুরজাহানই নয়, বেলগাছা ইউনিয়নে যমুনার ভাঙ্গনে নিঃস্ব ৫০টি পরিবারের আশ্রয় মিলেছে এখানে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন যমুনার এ দূর্গম চরে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়েছে। আশ্রয়হীন ৫০টি পরিবারের মাঝে এসব ঘর হস্তান্তর করা হয়। সরকার আশ্রয়হীদের গুচ্ছগ্রামে বিনামূল্যে ঘর দিয়েছেন, সেই সাথে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিক এবং স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবি, এসব বানভাসি মানুষের।

লিয়াকত হোসাইন, ইসলামপুর প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button