আওয়ামী লীগরাজনীতি

বিশ্বের অর্থনৈতিক ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতিরও দুঃচিন্তার কারণ

কোভিড-১৯ সারা বিশ্বকে থমকে দিয়েছে। প্রতিদিন মৃত্যু খবর আসে সারা দুনিয়া থেকে, থমকে যাওয়া বিশ্বে কর্মহীন মানুষের হাহাকার কেবলই বাড়ছে, গোটা বিশ্ব আজ প্রকট অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও দুঃচিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে

অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। নভেল করোনাভাইরাসে অর্থনীতিতে উদ্ভুত নেতিবাচক প্রভাবের ঝুঁকি এবং প্রভাবগুলি হ্রাসের সহায়তায় সদস্য দেশগুলোর জন্য এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) কর্তৃক ১ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠন করায় এআইআইবি প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এআইআইবি’র প্রেসিডেন্টের গতিশীল নেতৃত্বে সদস্য দেশগুলির করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করতে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি ধারাবাহিক ক্রমবর্ধমান সহায়তা এবং স্বাস্থ্য খাতের জরুরী সেবা ও বাজেট সাপোর্টের জন্য এআইআইবি বাংলদেশের জন্য যে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে সেজন্যও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এআইআইবি প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি এবং সহযোগীতা নিয়ে টেলিকনফারেন্সে আলাপচারিতার শুরুতে এসব কথা বলেন। টেলিকনফারেন্সে আরও যুক্ত হন এআইআইবির ভাইস  প্রেসিডেন্ট ড. ডি. জে পানডিয়ান।

এআইআইবি প্রেসিডেন্ট জিন লিকুন বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি নিঃসন্দেহে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিনই পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। যদি মহামারী মোকাবেলার পাশাপাশি অর্থনীতি নিয়েও এখন থেকেই না ভাবা হয়, তাহলে ২০২১ সালেও অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হবেনা। সদস্য দেশগুলো একসাথে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি অর্থমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশে এআআিইবির চলমান প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং সেগুলো দ্রুত সফলভাবে সমাপ্ত করার পদক্ষেপ গ্রহনের অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে এআইআইবির প্রায় ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তায় ৭টি প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার মধ্যে ২০২০ সালে অনুমোদিত হয়েছে ৩ টি প্রকল্প।

ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষ ও অর্থনীতির জন্য ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, যা জিডিপি’র ৩.৩ শতাংশ। এই প্যাকেজের অর্থ ব্যয়ে জনসাধারণের ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা জালকে প্রশস্ত করা এবং আর্থিক সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়েছে।

বাংলা টিভি/রাসেল

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close