আওয়ামী লীগরাজনীতি

মুজিব বর্ষেই সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত হবে

দশ বছর আগেও বিদ্যুৎতের অভাবে দেশের অর্থনীতি ছিল পর্যুদস্ত। এবং জনজীবনে লোডশেডিং ছিল অসহনীয়। ২০০৯ সাল থেকে সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে বিদ্যুৎ খাতে সাড়ে ১১ বছরে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

বিদ্যুৎ ঘাটতির দেশ থেকে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্তের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন মুজিব বর্ষেই সারা দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত হবে। শুধু দেশ স্বাধীন করাই নয়, বাংলাদেশকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে স্বাধীনতার পর নানামুখী উদ্যেগ নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭৫ সালে তাকে স্বপরিবারে হত্যার মাত্র ছ’দিন আগে ব্রিটিশ কোম্পানি শেলের কাছ থেকে মাত্র চার মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ৫টি গ্যাস ক্ষেত্র ক্রয় করে দেশের জ্বালানি খাতকে সুসংহত করেন তিনি। দেশের মোট উৎপাদনের ৩৫% গ্যাস এখনো এই ৫টি ক্ষেত্র হতে উৎপাদিত হয়। যা দেশের বিদ্যুত উৎপাদনেরও প্রধান জ্বালানি।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এ খাতের উন্নয়নে উদ্যেগ নেয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে এখন ২২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুত উৎপাদন সম্ভব। চাহিদা যদিও প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো। এছাড়া, এগারো বছরে বিদ্যুত কেন্দ্র বেড়েছে ১১০টি আর উৎপাদন ক্ষমতা বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৪৫ মেগাওয়াট।

বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ ও সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের সদিচ্ছায়ই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ খাতের উন্নয়নের পেছনে বঙ্গবন্ধুর নেয়া উদ্যেগের কথাও। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, চলতি বছরেই শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত হবে।

তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদ্যুত সরবরাহ ও মান সম্পন্ন উৎপাদনের সরকারে আরও জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেয়ার প্রকল্পেরও প্রশংসা করেন তিনি। বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ বছরে ২ কোটি ৪৩ লাখ নতুন গ্রাহক বিদ্যুত সংযোগ পেয়েছে।

এর ফলে দেশের ৯৬ ভাগ মানুষ বিদ্যুত সেবার আওতায় এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন কয়লাভিত্তিক  এবং পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু হলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ও অনেক কমে আসবে।

আসাদ রিয়েল/বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close