অন্যান্যবাংলাদেশ

বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে কমানোর পরিকল্পনা নেই: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

করোনার প্রভাবে সারা বিশ্বে ব্যাপক হারে কমেছে তেলের ব্যবহার। কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। এতে করে সাশ্রয়ী মূল্যে তেল আমদানির সুযোগ নিতে পারে বাংলাদেশ সরকার। যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মজুদ গড়ে তোলা সম্ভব। তবে, অর্থনীতিবিদিরা বলছেন, তেলের দাম কমালে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সার্বিক অর্থনীতিতে।

করোনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে আবারো কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। ফলে এপ্রিলেই যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঋণাত্নক হয়ে যায়। সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তেল কেনার জন্য উল্টো ক্রেতাদের টাকা দেন উৎপাদক ও বিক্রেতারা।

সব মিলিয়ে খুব খারাপ সময় পার করতে হচ্ছে তেল উৎপাদনকারী বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে। গতকালও তেলের দাম প্রায় এক শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি মূল্য দাড়ায় ৩৫ মার্কিন ডলার। গত জানুয়ারির তুলনায় যা ৪৬ শতাংশ কম। অথচ ওই সময় প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ৬৫ দশমিক ৬৫ ডলার।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী :(১) ২০১৯-২০ অর্থ বছরে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়েছে: ৫, লাখ ৭৭ হাজার ৫০২ মেট্রিকটন, যার বাজার মূল্য ২৩৫৯.৫৯ কোটি টাকা। (২) ২০১৯-২০ অর্থ বছরে পরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়েছে:
১৮,০৪,৬২০.৪৭ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য ৯,০৩৪.৬৫ কোটি টাকা।  (৩) ফার্নেস অয়েল-১,৭৫,৫৭৪.৫২ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য ৭১৪.২০ কোটি টাকা।

তবে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে দাম কমলেও বাংলাদেশের বাজারে এখনো তেল বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। বিপিসি বলছে দীর্ঘ লকডাউনে জ্বালানী তেলের ব্যাবহার কমেছে ৬৫ শতাংশ। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৩ হাজার টন ডিজেল ব্যবহার হলেও তা কমে এসেছে ছয় হাজার টনে। অপরদিকে প্রতিদিন বিমানের জেট ফুয়েলের চাহিদা ১২৩৯ মেট্রিক টন থাকলেও তা কমে মাত্র ৮১ টনে নেমে এসেছে। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনসহ অন্যান্য জ্বালানি তেলের চাহিদা।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলছেন, দেশে তেল সংরক্ষণের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বিশ্ব বাজারের সুবিধা নিতে পারবে না বাংলাদেশ। পাশাপাশি আগের দামে কেনায় দামও কমাতে পারছে সরকার। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দামের সঙ্গে কৃষি, পরিবহণ, উৎপাদনসহ কয়েকটিখাত যুক্ত থাকায় দাম কমালে সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দুইমাসের বেশি সময় পরে চালু হয়েছে গণপরিবহন চলাচল। চলছে সিমিত আকারে। তবে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া। এই সংকটকালে পরিবহনের ভাড়া না বাড়িয়ে তেলের দাম সমন্বয় জরুরি বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

মাসুদ সুমন, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close