যেভাবে র্যাবের ১০৮ সদস্য করোনা জয় করলেন

নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরাসরি মানুষের সংস্পর্শে এসে র্যাব-১১ এর ১১৭ জন সদস্য আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১০৮ জন সদস্য সুস্থ হয়ে কাজে ফিরেছেন আবার। বাকি ৯ জন সদস্য আদমজীনগরে র্যাব-১১ এর সদর দপ্তরে আইসোলেশনে রয়েছেন এবং তারাও সুস্থতার পথে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, ১০৮ জন করোনাজয়ী র্যাব সদস্যকে সম্প্রতি র্যাব-১১ এর সদর দপ্তরের অভ্যন্তরে অনুষ্ঠান করে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার।
যে প্রক্রিয়ায় সুস্থ হলেন র্যাব সদস্যরা:
মূলত র্যাব-১১ এর আক্রান্ত সদস্যরা নিজস্ব আইসোলেশন ব্যবস্থায় থেকে সুস্থ হয়েছেন। শুধু বয়স্ক ও অধিক উপসর্গ থাকায় ৯ জনকে ঢাকায় সিএমএইচে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। তারা সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। বাকিদের ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরেই আইসোলেশনে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
র্যাবের নিজস্ব আইসোলেশন ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত তুলে ধরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার জানান, শুধু অন্যান্য বাহিনী ও বিভিন্ন দপ্তরের সবাইকে নিজস্ব ব্যবস্থায় নিজেদের কর্মীদের সেবা দিয়ে সুস্থ করতে পারার বার্তা দিতেই আমরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমাদের সদস্যদের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেছি।
তিনি বলেন, আইসোলেশন সেন্টারে র্যাবের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের জেনারেল দ্বারা জারি করা করোনা ট্রেটমেন্ট প্রোটোকল অনুসারে অক্সিজেন সিলিন্ডার, পোর্টেবল ভেন্টিলেটর, পোর্টেবল ইসিজি মেশিন, ২৪ ঘণ্টা জরুরি রোগী বহনের জন্য অক্সিজেন সুবিধার অ্যাম্বুলেন্সসহ যাবতীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম আমরা ব্যবস্থা করেছি।
ডিসপোজেবল প্লাস্টিকের পাত্রে আক্রান্তদের তিন বেলা খাবার দেওয়া হতো। এছাড়া ফল, লেবু, আদা, লবঙ্গ, কালোজিরা ও প্রতিদিন চা দেওয়া হতো। তাদের সুরক্ষায় দৈনিক ব্যবহারের জন্য ফেস মাস্ক, পিভিসি হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং ন্যাপকিন দেওয়া হতো।
তাদের জন্য আলাদা প্রার্থনা কর্নার, গরম পানির বাথরুম, বৈদ্যুতিক কেটলি, টিভি ও সংবাদপত্র দেওয়া হতো। র্যাব সদস্যদের ওষুধ হিসেবে জিংক ট্যাবলেট, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ‘সি’ ট্যাবলেট দেওয়া হতো। এখনও আইসোলেশনে থাকা ৯ জনকে এসব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, তাদের রুম জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা হতো নিয়মিত। এছাড়া যারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও খাবার বিতরণ করছে তাদের জন্য পিপিই দেওয়া হয়েছে।



