বাউফলে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, নেই সচেতনতা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বেড়েই চলছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সাথে বাড়ছে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু। জেলায় গত এক দিনেই শুধু মাত্র এ উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ জন ও মৃত্যু হয় ২ জনের। এছাড়াও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সারিতে রয়েছেন, চিকিৎসক, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধাসহ সেবা প্রদানকারী ব্যক্তিবর্গ।
পরিস্থিতি ভয়াবহ হলেও একটুও সচেতনতা ফেরেনি উপজেলার অধিকাংশ মানুষের। স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, সাধারণ মানুষ যদি সরকারের ঘোষিত লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন করে না চলেন তাহলে হয়ত জেলার মধ্যে এ উপজেলার হবে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা।
জানা গেছে, উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭ জন, মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের ও সুস্থ্য হয়ে বাড়ি গেছেন ১১জন। তবে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন ১২জন। রবিবার পটুয়াখালীর জেলার মধ্যে শুধু মাত্র বাউফল উপজেলায় আক্রান্তের ও মৃত্যুর সংখ্যা রয়েছে।
এ ছাড়াও উপজেলায় বেশকিছু পরিবারের লোকজন করোনার উপসর্গ নিয়ে ঘরে বসেই চিকিৎসা নিচ্ছেন, সামাজিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে কিংবা হয়রানীর ভয়ে তারা প্রকাশ করছে না। ঘরে বসে শারীরিক অবস্থা যদি খুবই সংকটাপন্ন হয় তখন হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা সেওয়ার জন্য ছুটে যান তারা। শেষ সময়ে ছুটে যাওয়া অধিকাংশ রোগীরা কয়েক ঘন্টার মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ছেন।
উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিরা প্রত্যেকেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুিেখ হয়েছেন। এ দিকে কেরোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছাড়িয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন বিশিষ্টজনরা। বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অতুল পাল বলেন, মানুষের মধ্যে মৃত্যু ভীতি রয়েছে, কিন্তু কোন রকম সচেতনতা নেই।
উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের প্রশাসন থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নিদেশ দিলে ওই সকল ব্যক্তিরা সেই নির্দেশ মানছে না। তারা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাটকাজারে। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্র করার জন্য উপজেলায় নাই কোন সঠিক তদারকি।
বাউফল উপজেলার গ্রামাঞ্চলের কয়েকজন পল্লী চিকিৎসকদের সাথে করোনার প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে আলাপ করলে তারা বলেন, গ্রামের মানুষের মধ্যে করোনা নিরবে ছড়াচ্ছে। তাদের কাছে প্রতিদিনই উপসর্গ নিয়ে রোগীর ভীড় লেগেই থাকে। তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার পরামর্শ দিলে ভয়ে যেতে চায় না।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আক্তারুজ্জামান বলেন, জেলায় করোনা পরীক্ষা ল্যাব বসানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন। আমরা আমাদের সাধ্য মতন সেবা দিয়ে যাচ্ছি। সেবা দিতে গিয়ে হাসপাতালে কর্মকর্তাসহ অনেকজন আইসোলেশনে আছেন।
বাউফল উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, আমারা চেষ্টা করছি করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক সরকারের সকল নির্দেশনা গুলো মাঠ পর্যায়ে পৌছে দিতে। মানুষ যদি নিজ থেকে বিষয়টা উপলব্দি করতে না পারে তাহলে এ মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব না।
কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল প্রতিনিধি



