দেশবাংলা

স্বজন প্রীতির গ্যাড়াকলে বাউফলের করোনা টেষ্ট

পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র ল্যাব টেনিশিয়ানের স্বজন প্রীতির গ্যাড়াকলে আটকে থাকে বাউফল উপজেলার করোনা শনাক্ত করণের কাজ। স্বজন প্রীতি করে করেনার শনাক্ত করনের নমুনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠান এমন অভিযোগ ওই টেকনিশিয়ানের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে রফিকুল ইসলাম পটুয়াখালী সদরের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ায় তিনি উপজেলার নমুনা গুলো পাঠানোর ক্ষেত্রে গড়িমসি করেন। বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ২৫-৩০ জন নমুনা প্রদানের আসলেও সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০টির বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়না। এমনকি নমুনা দেওয়ার পরে যথা সময়ে রিপোর্ট পেতে সময় লাগছে ৮-১০ দিন।

গত সোমবার পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করে পাঠনো হয়েছে ৩৯৭ জনের। ফলাফল পাওয়াগেছে ৩১৩ জনের। উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৭ জন মারা গেছেন, উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৫ জন, আক্রান্ত হয়েছেন ৪১ জন। উপজেলার একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন বশির আহম্মেদ ও সুমাইয়া আক্তার।

তারা নিজেদের মধ্যে করোনার উপসর্গ অনুভব করলে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে এসে নমুনা দেন। গত দশদিন হয়ে গেল আজ পর্যন্ত তারা জানতে পারলেন না তাদের ফলাফল। এ কারণে যোগ দিচ্ছেন না তাদের কর্মক্ষেত্রে। এ ভাবে শুধু বশির আহম্মেদ কিংবা সুমাইয়া আক্তার নন উপজেলার অনেক মানুষই এমন পরিস্থিতর মুখোমুখি হয়েছেন। শুধু তাই নয়, নমুনা দিতে গিয়েও অনেক দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছেন অনেকেই।

ব্যক্তি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক করোনা প্রতিরোধ ও সচেতন করা কমিটির ইউনিয়ন পর্যায়ের এক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, কোন ব্যক্তির করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে গেলে উপজেলায় তার ফলাফল আসতে সময় লাগে ৮ থেকে ১০দিন। ফলাফল না আসা পর্যন্ত নমুনা দেওয়া ব্যক্তির হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার নিয়ম থাকলেও তারা হাটবাজারে অবাধে চলাফেরা করেন। ৮-১০ দিন পড়ে যখন কারো ফলাফল পজেটিভ আসে তখন তারা আইসোলেশেনে যায়। এতে করে সংক্রমনের ঝুঁকি থেকে যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আখতারুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গির আলম বলেন, ‘সারা দেশেই একই সমস্যা। নমুনা পরীক্ষার হার বেশি হওয়ায় রিপোর্ট পেতে একটু বিলম্ব হচ্ছে।

তার কর্যালয় থেকে নমুনা পাঠাতে স্বজনপ্রীতি সিনিয়র ল্যাব টেকনেশিয়ান রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, আরটিপিসিআরের ক্যাপাসিটি হিসাব করে নমুনা পাঠাতে হয়। এখানে কোন স্বজন প্রীতি হয় না।

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close