
করোনা সংকটে বিশ্বে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতির মধ্যেও, বাংলাদেশের জন্য ভালো খবর বর্তমান রেমিটেন্স রেট। সাম্প্রতিক সময়ে, প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার পরিমান একের পর এক রেকর্ড ছুঁয়েছে। মূলত, রেমিটেন্সের উপর সরকার ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয়ায়, অবৈধ পথে টাকা পাঠানোর প্রবণতা কমেছে। রেমিটেন্সের এ প্রবাহ ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছে অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদরা।
চলতি বছরে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গেছে বাংলাদেশের রেমিটেন্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের রির্জাভ ছাড়িয়ে গেছে ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রেকর্ড রিজার্ভের এই ধারা উর্ধমুখী হবার উল্লেখযোগ্য কারণ, বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ।
২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪২ কোটি। গেলো অর্থবছরে সরকার রেমিটেন্সের উপর ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করলে বৈধ পথে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর হার বাড়তে থাকে। তবে সারাবিশ্বে করোনা মহামারীর সময় রেমিটেন্সের এমন প্রবাহ অনেকটা বিস্ময়কর বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলছেন, রেমিটেন্সের প্রবাহ বৃদ্ধি যেমন ভালো খবর, তার থেকেও সুখকর হবে আগামীতে এ ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারের দুরদর্শী পদক্ষেপ। এছাড়া করোনা পরবর্তী বাংলাদেশে রেমিটেন্সের প্রবাহ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে, এমনটিই মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ এই কর্মকতা।
অন্যদিকে, দেশের অর্থনীতিতে রিজার্ভ বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই মুদ্রাস্ফীতিরও সম্ভাবনা বাড়ে। তবে, চলতি বছরে মুদ্রাস্ফীতির আশংকা তেমন একটা না থাকায়, অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন, অর্থনীতিবিদ ও গবেষক (বিআইডিএস), ডক্টর নাজনীন আহমেদ।
রেমিটেন্স এ ধারা অব্যাহত রাখতে প্রবাসীদের মাঝে উৎসাহ বাড়ানো এবং বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর পদ্ধতি সহজতর করলে, দেশের অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে, বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শাহরিয়ার রাজ, বাংলাটিভি



