
দিন দিন প্রকট হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি। প্রাণঘাতী ভাইরাস সংকটে যেখানে অনেক বেশি সমন্বয় দরকার, সেখানে উল্টো দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্যখাতের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র। করোনা পরীক্ষায় জালিয়াতিসহ, হাসপাতালে অব্যবস্থাপনাসহ একের পর এক ঘটনা প্রকাশের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুষছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে।
আর অধিদপ্তর বলছে, মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নিয়েই সব কাজ হয়েছে। সমন্বয়হীনতার পুরো বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
করোনাভাইরাস পরীক্ষায় রিজেন্ট হাসপাতালের শাহেদের সঙ্গে চুক্তি সাক্ষরের সেই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাপরিচালক, সচিবসহ সবাই উপস্থিত ছিলেন। গেল ১১ জুলাই গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মহাপরিচালক দাবি করেন, মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই রিজেন্টের সঙ্গে সমঝোতা সই হয়েছে।
কিন্তু বিষয়টি অস্বীকার করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরদিনই এই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বলতে কে? তার ব্যাখ্যা চেয়ে ৩ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ নেয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে আবুল কালাম আজাদকে। তবে এই সমন্বয়হীনতার বিষয়ে কথা বলছেন না, স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কেউ।
এদিকে, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের পাল্টাপাল্টি দোষারোপের করোনা মোকাবিলায় অব্যবস্থাপনাকে আরও দৃশ্যমান করে তুলছে, বলে মনে করে স্বাধীনতা চিৎসক পরিষদ।
আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় দুর্যোগের স্বাস্থ্যখাতের শীর্ষ দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দুঃখজনক। সাম্প্রতিক দুর্নীতির বিভিন্ন ঘটনায় এই অভিযোগ আরো প্রকাশ্যে এসেছে। তবে যেকোন মূল্যে এই সমন্বয়হীনতা দূর করে, করোনা সংকটে স্বাস্থ্যখাতের দূরাবস্থা কাটিয়ে মানুষের সেবা দেয়ার পক্ষে মত দেন তারা।
আরমান কায়সার, বাংলা টিভি



